1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন

খেলাপির হারও তত বেশি, ঋণ যত বড়

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার পঠিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :

ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণই এখন বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাপির হারও বাড়ছে। ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের ঋণের ৪৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রেও খেলাপির হার ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ ১ কোটি টাকার বেশি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণে খেলাপির হার প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ ছোট ঋণের তুলনায় বড় ঋণেই খেলাপির ঝুঁকি বেশি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতে ঋণের আকার অনুযায়ী খেলাপির এমন চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ খেলাপি অবস্থায় ছিল। তিন মাস আগে মার্চে এই হার ছিল ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণের হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে।

তবে খেলাপি ঋণের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে খেলাপি গ্রাহকের সংখ্যায়। মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপি ছিলেন ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৮৬ জন। জুনে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৪ জনে। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি গ্রাহক কমেছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭২ জন। গ্রাহকের সংখ্যা কমলেও বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হওয়ায় মোট খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে।

ঋণের সীমা অনুযায়ী খেলাপির চিত্রে বড় ঋণগ্রহীতাদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট। জুন পর্যন্ত ১ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি ছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১৫ শতাংশ।

১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এ শ্রেণির প্রায় ৩০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে। ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণস্থিতির ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশই খেলাপি।

২০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণস্থিতি ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৩৮ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে। ৩০ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের ৬৯ হাজার কোটি টাকা ঋণের প্রায় ৩৯ শতাংশ খেলাপি।

৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণস্থিতি ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৪৬ শতাংশ, যা ঋণের বিভিন্ন সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ। আবার ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা ৫ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এর ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশই খেলাপি।

খাতভিত্তিক ঋণেও ব্যবসা-বাণিজ্যে খেলাপির চাপ সবচেয়ে বেশি। এ খাতে বিতরণ করা ঋণের ৪৪ দশমিক ১৯ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। শিল্প ও নির্মাণ খাতে খেলাপির হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ করে। পরিবহণ খাতে ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন খাতে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে। ভোক্তা ঋণে খেলাপির হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

শিল্পের আকারভেদেও বড় শিল্পে খেলাপির চাপ উল্লেখযোগ্য। জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ গেছে বড় শিল্পে। এর প্রায় ৪০ শতাংশ এখন খেলাপি। মাঝারি শিল্পে খেলাপির হার ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ, ছোট শিল্পে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং কুটির শিল্পে ৪৬ শতাংশ।

ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর ঋণে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি, ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এ হার ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকে ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক কম, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের মানের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর ঋণঝুঁকি। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নানা চাপের কারণে কিছু গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কমলেও ঋণের আকারভেদে খেলাপির হার বড় ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রেই বেশি। ফলে বড় ঋণের খেলাপি ব্যাংক খাতের সামগ্রিক ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..