1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

জাতীয় কাঠামো তৈরির উদ্যোগ জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত
১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির সঠিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব নিরূপণে জাতীয় পর্যায়ে একটি প্রমিত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Formulation of a National Framework for Loss and Damage of Bangladesh’ প্রকল্পের মধ্যবর্তী কর্মশালা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরের অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ অধিদফতরের উদ্যোগে এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (CEGIS) কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও উইং চিফ (জাতিসংঘ) এ কে এম সোহেল এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে মানুষের জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বাস্তুচ্যুতির মতো অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিকেও হিসাবের আওতায় আনতে হবে। প্রস্তাবিত জাতীয় ফ্রেমওয়ার্ক এ ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ ও তুলনাযোগ্য চিত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

CEGIS-এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোতালেব হোসেন সরকার বলেন, প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কের মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের। বিদ্যমান জ্ঞান, তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ভিত্তিতেই এটি তৈরি করা হচ্ছে এবং এতে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আন্তর্জাতিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ অর্থায়নের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জাতীয় সম্পদের তালিকা প্রণয়ন, খাতভিত্তিক মালিকানা নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য উপাত্ত ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের তথ্যঘাটতি দূর করা এবং স্থানীয় পর্যায়ের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে জাতীয় লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্যানেল ও উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবেশ অধিদফতর বলছে, প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির জাতীয় চিত্র আরও নির্ভুলভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ দাবির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..