কিশোরগঞ্জ প্রিতিনিধি
“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান,
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।”
জুলাই মাসে ২০২৬ তারিখে জেলা পর্যায়ে নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক জনাব সোহানা নাসরিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,অদ্যক্ষ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ জনাব প্রফেসর মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মোঃ ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জনাব মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, সিভিল সার্জন (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মোঃ নাজমুল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব মোঃ শরিফুল হক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং জেলার বিশিষ্ট সুধীজন।
সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ, সাম্য, মানবতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত কেবল সৃজনশীলতার অনন্য নিদর্শন নয়; বরং তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবমুক্তির আহ্বান এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দিকনির্দেশনা। তাঁর চেতনা ধারণ করেই গড়ে উঠতে পারে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জনাব সোহানা নাসরিন বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর সাম্য, মানবতা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ধারণ করতে পারলেই একটি বৈষম্যহীন, উদার ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনে নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মের নান্দনিক সৌন্দর্য, মানবপ্রেম এবং চিরন্তন আবেদন নতুনভাবে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপিত হয়।
নজরুল আমাদের শিখিয়েছেন—
“মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।”
এই অমর বাণী আজও আমাদের সাম্য, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
আসুন, নজরুল বর্ষে তাঁর দ্রোহের সাহস, মানবতার আহ্বান, সাম্যের আদর্শ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে গড়ে তুলি বৈষম্যহীন, সংস্কৃতিমনা, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ।