1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন

নোয়াখালীতে ইলিশের সংকট, চড়াদামে হতাশ ক্রেতা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

নোয়াখালী প্রতিনিধি
ভরা মৌসুমেও নোয়াখালীর স্থানীয় বাজারগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। যে কারণে বাজারে রূপালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে চড়াদামে। অতিরিক্ত দামে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে জাতীয় মাছ। অন্যদিকে লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

ব্যবসায়ী ও জেলেদের অভিযোগ, নদীতে অসাধু চক্রের কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, জাটকা নিধন ও মা ইলিশ শিকার বন্ধ না হওয়ায় মেঘনায় ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে আকারভেদে প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। যা গত দুই বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে জেলার প্রায় ৩৬ লাখ মানুষের বড় একটি অংশ ইলিশ কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন। চড়া দামের কারণে বাজারে এসে অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, আবার কেউ বাধ্য হয়ে ছোট আকারের মাছ বা বিকল্প মাছ বেছে নিচ্ছেন।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের বার্ষিক তথ্য বিশ্লেষণে বিগত পাঁচ অর্থবছরে জেলাটিতে ইলিশ আহরণের পরিমাণে বেশ ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মোট ২২ হাজার ৬২১ মেট্রিক টন ইলিশ সংগৃহীত হয়েছিল, পরের ২০২১-২২ অর্থবছরে তা সামান্য হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ১৯১ মেট্রিক টনে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ২২ হাজার ৭৫১ মেট্রিক টনে পৌঁছালেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বড় ধরনের ধাক্কা খায় এই খাত। ওই অর্থবছরে আহরণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে ১৮ হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টনে নেমে আসে। তবে সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ধারাবাহিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। জেলাটিতে আহরণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন।

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা চান নদীতে আবার আগের মতো ইলিশ মাছ আসুক। ইলিশ থাকলে জেলে বাঁচবে, ব্যবসায়ী বাঁচবে, ক্রেতারাও ভালো দামে মাছ কিনতে পারবে। এখন ইলিশ নেই, হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তারা আরও বলেছেন, দাদন ব্যবসায়ীদের ইলিশ মাছ দেওয়ার পর খালি হাতে আসতে হয় বাড়িতে। নদীকে অনেক সময়ই ডাকাত আতঙ্কে থাকতে হয়। মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের আরও জোরদার টহল প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..