কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ইটনা, কিশোরগঞ্জ থেকে: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে,
গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের উৎসব নৌকা বাইচ। সেই চিরচেনা লোকজ ঐতিহ্যের আনন্দে আজ মুখরিত হয়ে উঠেছিল কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজার সংলগ্ন সুরমা নদী।
আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকালে ইটনার ধনপুরে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাবা ফৌজিয়া খান (অতিরিক্ত দায়িত্বে, সাবেক ডিসি সোহানা নাসরিনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রচারিত নাম) সহ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা। [নোট: আপনি সোহানা নাসরিন লিখেছেন, আমি হুবহু আপনার দেওয়া নামই ব্যবহার করছি]
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন – কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো: ফজলুর রহমান
কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মিজানুর রহমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো: ইশতিয়াক ইমন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাবা জেসমিন আক্তার
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ইটনা
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মিঠামইন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, করিমগঞ্জ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
১২ নৌকার প্রাণবন্ত লড়াই:
প্রাণবন্ত এই নৌকা বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার চালনা, ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর হাজারো দর্শনার্থীর উচ্ছ্বাসে সুরমা নদীর দুই পাড় পরিণত হয় এক অপূর্ব মিলনমেলায়। নদীর দুই তীরে নারী-পুরুষ-শিশুর ঢল নামে।
স্থানীয়রা জানান, হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বর্ষাকালে নৌকাই তাদের যোগাযোগের একমাত্র বাহন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “নৌকা বাইচ কেবল বিনোদন নয়—এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগের এক অনন্য মাধ্যম। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন, কিশোরগঞ্জ এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় উৎসাহিত করবে।”
শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।