1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

বগুড়ার বিশেষ আয়োজনে শনিবার পরীক্ষায় বসছে ১৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত
১৮

বগুড়াপ্রতিনিধি,
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে পারেননি বগুড়া ও নাটোরের দুটি কলেজের ১৮ পরীক্ষার্থী। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। ফলে শনিবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন বলে আশা করছেন শিক্ষা বোর্ড।

এর আগে, ফরম পূরণের টাকা কলেজের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের কাছে জমা দিলেও তা বোর্ডে জমা না পড়ায় এসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি। গতকাল অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারা।

জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ শিক্ষার্থী এ সমস্যার মুখে পড়ে।

এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ করায় তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি এবং প্রবেশপত্রও আসেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেন, অনলাইনে ফরম পূরণে জটিলতা হওয়ায় আমি অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেন। পরীক্ষার আগের দিন থেকে তার ফোন বন্ধ এবং তিনি কলেজেও আসছেন নি। পরে জানতে পারি- আমার ফরমই পূরণ করা হয়নি।

শুধু ইসরাত জাহান নন, একই প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও সাত শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীরা হলেন- সবুজ আহম্মেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল, শিমুল, শাওন, সাব্বির এবং তানভির হোসেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, একজন মানুষের অবহেলা ও প্রতারণার কারণে আমার মেয়ের উচ্চশিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হলো। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের থেকে প্রবেশপত্র চাইলে সে বারবার বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো সমাধান করেনি।

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, বুধবার বিকেলে প্রথমবারের মতো বিষয়টি তার নজরে আসে। কলেজে ফরম পূরণসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এ জন্য পৃথক কমিটি রয়েছে। কোনো কর্মচারীর হাতে নগদ টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শাওনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজে খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন ও নাটোরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কলেজ থেকে হয়ে আসে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়। মূল কাজটা কিন্তু কলেজেই হয়। অসাদু কিছু মানুষের জন্য হয়তো হয়নি। আজ তাদের রেজিস্ট্রেশন করা হবে। তারা আগামীকালকের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

জানা যায়, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় মোট অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৪৯৭ জন। শতাংশের হিসেবে ২ দশমিক ২১ শতাংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..