1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

বাসযোগ্য শহর গড়তে ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম
ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগীতা চেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেছেন, ‘এই ঢাকা আমার—এই অনুভূতি নিয়ে প্রত্যেককে ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। মানুষ যদি নিজের শহরকে আপন করে নেয়, তাহলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মশামুক্ত রাখার কাজও সহজ হবে।’

 

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নগরভবনে ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত ঢাকা শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, ‘বায়ুদূষণের কারণে ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় উঠে আসে। নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করা গেলে এ দূষণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’

নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ছাড়া কোথাও ময়লা ফেলা যাবে না। মানুষ যেভাবে নিজের শয়নকক্ষ ও বসার ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, একইভাবে ঢাকার সড়ক ও জনপরিসরকেও সুন্দর রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।’

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, শোভাযাত্রায় ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতিকৃতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নগরীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা শুধু ঢাকার নয়, পুরো দেশের গর্ব। নতুন প্রজন্মকে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

চলমান উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নিতে না পারার কারণ সম্পর্কে প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে তাকে সঙ্গে নিয়ে লালবাগ কেল্লায় চূড়ান্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সেখানে ঢাকা মহানগরের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, ইতোমধ্যে সাইকেল র‍্যালি, ম্যারাথন, নৌকাবাইচ ও চিত্রাঙ্কন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এবং সুন্দরভাবে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আগামী মাস থেকে প্রতি শনিবার স্কুলশিক্ষার্থীদের এসব স্থান পরিদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ার কথা জানান তিনি। এ জন্য সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা সিটি করপোরেশন প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি করে বাসের ব্যবস্থা করবে বলেও জানান তিনি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের শহর, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ তৈরি হবে। শহীদ মিনারসহ ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা মানুষের আত্মত্যাগ ও নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি বহন করছে। ঢাকা সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শহর। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্মৃতি এ নগরীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..