1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

হাটহাজারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি: হাটহাজারীতে ৭ জন গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

হাটহাজারী ( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বিদেশি নম্বর ও WhatsApp-এ ব্যবসায়ী-চিকিৎসককে হুমকি; পুলিশের অভিযানে তলোয়ার, চাপাতি, ছুরি ও ৪ মোবাইল উদ্ধার

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা বিদেশি নম্বর ও WhatsApp ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করতেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে একটি চাঁদাবাজ চক্র পরিচালনা করছিলেন। তাদের কাছ থেকে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং বিদেশি নম্বর ব্যবহার করা চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকির পাশাপাশি ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’—এমন ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। এসব অভিযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশ তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেফতার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও WhatsApp ব্যবহার করতেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করা হতো। পরে বড় সাজ্জাদ, ইমন, মোবারক ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হতো।

তদন্তে আরও পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের বেতনভুক্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্রও গড়ে তুলেছিলেন।
রাত ২টা থেকে ২৪ ঘণ্টার অভিযান
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোঃ তারেক আজিজের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মেদসহ হাটহাজারী থানা পুলিশের একটি দল ৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারীর ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী থানার মাজার এলাকা এবং খুলশী থানার দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ৭ জন গ্রেফতারকৃত হলেন
কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), খন্দকিয়া, হাটহাজারী।মোঃ রিকু (২৫), খন্দকিয়া, হাটহাজারী।মোঃ তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), জালালাবাদ, বায়েজিদ বোস্তামী।আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), ছিপাতলী, হাটহাজারী। আহমদ রেজা শাকিল (২৫), চিকনদণ্ডী, হাটহাজারী।মোঃ মানিক (৪০), খন্দকিয়া, হাটহাজারী।
নুরুল আলম (৪০), খন্দকিয়া, হাটহাজারী। এদিকে আতঙ্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা রয়েছে সেই তথ্য পাওয়া গেছে
পুলিশের তথ্যমতে, আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি, চাঁদাবাজির দুটি, অপহরণের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি, ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং হত্যাচেষ্টার একটি মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।
মোঃ মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত একটি ও ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলাসহ মোট দুটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মোঃ রিকু, মোঃ তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাসহ তিনটি করে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্যান্য সদস্য এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..