দীপক শর্মা
দীর্ঘদিনের উচ্চশিক্ষার ঘাটতি কাটিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এবার খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। জেলার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন পাওয়া ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি) ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। শিক্ষা, দক্ষতা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রস্তুতি ও কার্যক্রম দেখতে সরেজমিনে আসেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
পরিদর্শনকালে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি দেখে মনে হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই ইইউএসটি এগিয়ে যাচ্ছে। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগটি ইতিবাচক। শিক্ষার্থীরা যেন শুধু সনদ অর্জন না করে দেশ-বিদেশের চাকরির বাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, সেভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে। এভাবে এগোতে পারলে ইইউএসটি ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ইউজিসির পক্ষ থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সফলতা কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সুনাম বয়ে আনবে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট ইইউএসটি সরকারি অনুমোদন পায়। এটি দেশের ১১৭তম অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঠাকুরগাঁওয়ের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু প্রচলিত ডিগ্রি প্রদান নয়—দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আধুনিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইইউএসটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ঠাকুরগাঁওভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওর মাধ্যমে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে এবং স্থানীয়ভাবে দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের পরিদর্শনকালে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসাইন ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।