1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন

৭ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে নাইটগার্ডের যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত
১৩

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার শহরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে আবুল কালাম মালীতা (৫৫) নামের এক নৈশপ্রহরীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি বিচারিক ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম মালীতা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার হেলাই মাঝপাড়ার বাসিন্দা। তিনি কক্সবাজারের একটি হোটেলে নৈশপ্রহরীর চাকরির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণভাবে বাদাম বিক্রি করতেন এবং ভুক্তভোগী শিশুর দাদির মালিকানাধীন ভবনে ভাড়া থাকতেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল দুপুরে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইট হাউস পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় শিশুটিকে ভবনের দ্বিতীয় তলার এক ভাড়াটিয়ার বাসায় সবজি দিতে পাঠান তার দাদি রুবি আক্তার। সেখান থেকে ফেরার পথে আবুল কালাম খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজ কক্ষে নিয়ে মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়ন চালান। দীর্ঘ সময় শিশুটি ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে ওই কক্ষ থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আবুল কালামকে আটক করে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করেন। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় ২৮ এপ্রিল ভুক্তভোগীর দাদি বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় (মামলা নম্বর: ৭২/২৬)। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।

আদালত মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, ভুক্তভোগীর ২২ ধারার জবানবন্দি, চিকিৎসকের প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য-জেরা পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ সাজা প্রদান করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম ডি মীর কাশেম বাহাদুর ন্যায়বিচার পাননি দাবি করে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..