কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
প্রতিটি হিমাগারের সামনে আলু বোঝাই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টার অপেক্ষা করেও মিলছেনা হিমাগারে প্রবেশের সিরিয়াল। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সারা রাত ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামের চারটি হিমাগারের চিত্র এরকমই।
হিমাগার সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিক জমিতে আলুর চাষ, অধিক ফলন ও আলুর দরপতনের কারণে চাপ বেড়েছে হিমাগারে। হিমাগারের ধারণ ক্ষমতা প্রায় শেষ হওয়ায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ৭ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২২ মেট্রিক টন ফলন হিসেবে উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। জেলার চারটি হিমাগারের মোট ধারণ ক্ষমতা ৫২ হাজার মেট্রিক টন। কিছু আলু এরইমধ্যে খাবারের জন্য ব্যবহৃত হলেও বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ সুবিধার বাইরে থেকে যাবে।
সূত্র জানায়, অন্যান্য বছর বাইরের ব্যবসায়ীরা এখানকার আলু কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হিমাগারে সংরক্ষণ করে। খাবার আলু হিসেবেও ট্রাকে আলু চলে যেত ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে। এছাড়া মালেয়শিয়া, শ্রীলঙ্কা ও রাশিয়ায় আলু রপ্তানির কারণে আলুর চাহিদা ছিল ব্যাপক। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুতে বাজার কিছুটা ভালো থাকলেও পরে দরপতন হয় আলুর। ক্রেতাও মিলছেনা। বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর দাম ৯-১০ টাকা কেজি। এই দরে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। তাই হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য ভিড় করছেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শিবরাম গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এবছর তিনি ৪৭ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। হিমাগারে আলুর চাপের কারণে আলু সংরক্ষণ করতে সমস্যা হচ্ছে। এখনও প্রায় ৬০০ বস্তা আলু জমিতে পড়ে আছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের আলু ব্যবসায়ী বীর বাবুল জানান, খাবার উপযোগী বা হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য আলুর কোন অর্ডার পাওয়া যাচ্ছেনা। চাহিদা না থাকায় তারা কোথাও আলু পাঠাতে পারছেন না।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, এবছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু হিমাগারের সংরক্ষণ সুবিধা কম থাকায় কৃষকদের স্থানীয়ভাবে কিছু আলু সংরক্ষণের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
Leave a Reply