সাভার প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের ছাদ থেকে পড়ে নিহত শিক্ষার্থীর রুমে ‘সুইসাইড (আত্মহত্যা) নোট’ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও তার পড়ার টেবিলে ‘আত্মহত্যা’ বিষয়ক আরো কয়েকটি মন্তব্য লিখিত আকারে পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের রফিক ব্লকের পাঁচতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অমিত কুমার বিশ্বাস।
পরে বিকেল সোয়া ৫টায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও অমিতের সহপাঠীদের ভাষ্য ছিল- ছাদে বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত অমিত নিচে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিহত অমিত কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে হলে থাকা একই কক্ষের বাসিন্দারা (রুমমেট) এসে অমিতের বালিশের নিচে সুইসাইড নোট পান।
পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই কক্ষ পরিদর্শন করেন হলটির প্রাধ্যক্ষ। এ সময় প্রাথমিকভাবে সুইসাইড নোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল আহমেদ।
কক্ষে পাওয়া ওই নোটের লেখার সঙ্গে অমিতের হাতের লেখার মিল পাওয়া গেছে বলে জানান অধ্যাপক সোহেল আহমেদ।
ওই সুইসাইড নোটে লিখা রয়েছে, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার মস্তিষ্কই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী। আমি নিজেই নিজের শত্রু হয়ে পড়েছি অজান্তেই। নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত। আর না। এবার মুক্তি চাই। প্রিয় মা, বাবা, ছোটবোন সবাই পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।
এ বিষয়ে শহীদ রফিক-জব্বার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে নোটের লেখার সাথে অমিতের আগের খাতার লেখার মিল রয়েছে। এ ছাড়াও তার পড়ার টেবিলে সুইসাইড বিষয়ক আরও কয়েকটি লেখা রয়েছে। আমরা আপাতত রুম বন্ধ করে রেখেছি। পুলিশ এসে বাকিটুকু দেখবে।
অমিতের মৃত্যুর বিষয়ে এনাম মেডিকেলে কর্তব্যরত ডা. ইফরান বলেন, ইন্টারনাল ব্লিডিং ও মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে অমিতের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান হৃদয় বলেন, আমি তিনতলায় থাকা অবস্থায় ছাদ থেকে ভারি কিছু পড়ার শব্দ শুনি। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে অমিতকে পড়ে থাকতে দেখে হলের কিছু ছাত্রদের সহায়তায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে আসি। সেখান থেকে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
Leave a Reply