খুলনা প্রতিনিধি,
খুলনায় সংসদ সদস্য, মেয়র ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে খুলনা সার্কিট হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাত শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম কামাল, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রকিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হুসাইন খান ও বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা। বৈঠকে ওই সাত শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ও আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্য কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সেজন্য খুলনায় ছাত্রদের সকল কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সকল মৃত্যুর ঘটনায় সরকার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, খুলনা নগরের রয়েল মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন তাঁরা।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়ক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছি। তবে খুলনায় আমরা কোনো সহিংসতা করিনি। এখন আন্দোলনটা ভিন্ন খাতের দিকে চলে যেতে পারে, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলো। আমরা জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের পরবর্তীতে আর কোনো কর্মসূচি নেই।
তবে রাতেই শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে। অনলাইনে বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে গতকাল রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, খুলনা’র গ্রুপে এ তথ্য জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মিরাজ অন্য সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়কদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন।
পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্যাডে ‘স্পষ্ট বিবৃতি’ শিরোনামে আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে ফেসবুক গ্রুপ ‘কেইউ ইনসাইডার’ এবং ‘থট বিহাইন্ড দ্য কেইউ’ প্রকাশ করা হয়। এত দিন এই দুই গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাঁদের কর্মসূচি ঘোষণা ও প্রকাশ করতেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চলমান আন্দোলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট কোনো সমন্বয়ক ছিলেন না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরপূর্বক যে প্রেস ব্রিফিং করানো হয়েছে, তা নোংরা রাজধানীর অংশ ছাড়া কিছুই নয়। এ অবস্থায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করছি।’
সার্কিট হাউসের ওই বৈঠকের পর থেকে ‘প্রত্যাহার’ ও ‘প্রত্যাখ্যান’ করা শিক্ষার্থীদের সবার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে। বৈঠকের আলোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে তাঁদের কাছে বাড়তি কিছু জানা যায়নি।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন জানান- তাঁরা শিক্ষার্থীদের সৌহার্দ্যপূর্ন পরিবেশে আলোচনা করে সরকারের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান। দেশ ও জাতির কল্যানে কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়। শিক্ষার্থীরা সেই অনুরোধ রেখেছেন।
এস এম কামাল আরও জানান, খুলনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে না। আর হয়ে থাকলেও প্রত্যাহার করা হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবির বিষয়ে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply