তাহের আহমেদ | জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এই আসনের একাধিক সাবেক মনোনয়ন প্রত্যাশী। এতে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
এর আগে সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন—সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান, প্রয়াত সংসদ সদস্য নজির হোসেনের স্ত্রী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালমা নজির, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফেন্দি লিটন, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সরকার এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন।
গত ৩ নভেম্বর প্রাথমিকভাবে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনিসুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। সে সময় কামরুজ্জামান কামরুল ব্যতীত অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান। তবে কামরুজ্জামান কামরুল ও তাঁর কর্মী-সমর্থকরা মনোনয়নের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে মিছিল, সভা ও সমাবেশ চালিয়ে যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ ডিসেম্বর কামরুজ্জামান কামরুলকে (সংযুক্তি-২) পুনরায় ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ-১ আসনের চারটি উপজেলায় দুইটি বলয়ে আলাদা আলাদা কর্মসূচি চললেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে কামরুজ্জামান কামরুলকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হলে কিছুটা হতাশা দেখা দেয় অন্য পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে।
তবে সব বিভেদ ভুলে দলীয় স্বার্থে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গতকাল শনিবার তাহিরপুর উপজেলার ধুতমা গ্রামে আনিসুল হকের বাড়িতে আয়োজিত এক সভায় একই মঞ্চে বক্তব্য দেন আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল। সভায় দুই বলয়ের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের একসঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকারে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়।
সভায় আনিসুল হক বলেন, “দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান চূড়ান্তভাবে কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা সবাই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করব।”
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আনিস–কামরুলের এই ঐক্যে আমরা আনন্দিত।”
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মোঃ শাহজাহান বলেন, “চূড়ান্ত মনোনয়নে কামরুজ্জামান কামরুল নির্বাচিত হয়েছেন। আনিসুল হকসহ সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দল আরও সুসংগঠিত হবে এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।”
সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত আনিসুল হক বলেন, “দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত। আমরা সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করব।”
এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “দলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচন করতে চাই এবং ভবিষ্যতেও তাদের নিয়েই চলব।”
Leave a Reply