কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন। রায়ে একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেলের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), সামেদ আলীর ছেলে আইন উদ্দিন (৬৮) ও আকতার হোসেন (৪৩), আমেন উদ্দিনের ছেলে সাবু (৪১), আফসার শেখের ছেলে সোহাগ (৩৮), আজিরউদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৩), মজিবর রহমানের ছেলে বিপুল (৩৪), ছবের উদ্দিনের ছেলে বদর উদ্দিন (৬৮), আসাদুলের ছেলে আফসার শেখ (৬৫), জামির শেখের ছেলে সুমিন (৩৮), আফসার শেখের ছেলে সেলিম (৪১) এবং আমেন উদ্দিন শেখের ছেলে আবু (৩৭)।
এছাড়া আমির হোসেনের ছেলে জুলু (৩৮) ও রাহুল (৩৪) এই দুজনের দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলা থেকে ৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সামাজিক আধিপত্য ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়। কুমারখালী উপজেলার পরে চর-চাপড়া গ্রামের একটি কলাবাগানের পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আহম্মদ আলী ওরফে আকম আলী কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ২১ জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।