1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন

মনিরামপুরে কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সেজে জমিসহ হাতিয়েছেন ২ কোটি টাকা।

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

 

মনিরামপুর (যশোর) নিজস্ব প্রতিনিধি

শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনা সত্য। খাতা-কলমে হাফিজুর রহমান ২০০১ সাল হতে চৌগাছার হাকিমপুর এলাকার এমপিওভুক্ত এবিসিডি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। অথচ ২০০৪ সাল হতে যশোরের মণিরামপুরে মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। আর এই ভুয়া অধ্যক্ষ সেজে হাফিজুর রহমান একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানে ৩০জন শিক্ষক-কর্মচারী খাতা-কলমে নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় দুই কোটি টাকা। আবার টাকার বিনিময়ে গোপনেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে ডজন খানেক। পকেট কমিটি করে জাল-জালিয়াতি মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে নিয়োগ দেয়া ২৮ শিক্ষক-কর্মচারীকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিনা বেতনে শ্রম দিতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান নামে শিক্ষক-কর্মচারীদের ঘাড়ে বসে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান করেছেন প্রতারণা ও অর্থবাণিজ্যে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের জমি নিজের নামেও লিখে নিয়েও করছেন ধারাবাহিক অনিয়ম। এ ভাবে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নামধারী হাফিজুর রহমান দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় ৬ শতক জমি কিনে গড়ে তুলেছেন তিনতলা আলিশান বাড়ি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাফিজুর রহমান ২০০১ সালে চৌগাছার হাকিমপুর এলাকার এবিসিডি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০০৪ সালে গড়ে তোলেন মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজ। সেই থেকে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে হাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাজ কর্ম করে আসছেন। ২০০৪ হতে ২৪ সাল পর্যন্ত পকেট কমিটি করে খাতা-কলমে সকল প্রকার জাল-জালিয়াতি করে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়েছেন ৩০জন শিক্ষক-কর্মচারীকে। এ সকল শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির নামে অধ্যক্ষ নামধারী হাফিজুর রহমান হাতিয়েছেন দুই কোটি টাকা। এছাড়াও টাকার বিনিময়ে গোপনে নিয়োগ দিয়েছেন আরও ডজন খানেক। তাদেরকে বেগার খাটতে হয়েছে ২০১৯ সাল এমপিও’র আগ পর্যন্ত। অথচ এ সকল শিক্ষক-কর্মচারীর ঘাড়ের উপর বসে অধ্যক্ষ নামধারী হাফিজুর রহমান এমপিও নামে নানামুখি প্রতারনা করে ব্যাপক অর্থবাণিজ্য করেছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের টাকাই খোরশেদ গংদের কাছ থেকে কিনা জমি প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল না করেছেন নিজের নামে। ওই জমি প্রতিষ্ঠানের নামে ফেরত দেওয়া নিয়েও করছেন ধারাবাহিক প্রতারণা। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ২০২০ সালে করোনার সময় প্রতিষ্ঠানের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর এইচএসসির বোর্ড ফি বাবদ প্রায় ৪লাখ হাতিয়ে নেওয়ার। আর সকল ভুয়া কর্ম করতে হাফিজুর রহমান কখনও একটি রাজনৈতিক দলের হুহপ ও মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহারও করেছেন। এতে তিনি ফুলে ফেপে উঠে যশোর শহরের শংকরপুরে ৬ শতক জমি কিনে গড়ে তুলেছেন তিনতলা আলিশান বাড়ি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ যাবত তার বিরুদ্ধে নানামুখি অভিযোগ উঠে আসলেও নেওয়া হচ্ছে না প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ। তারা বিষয়গুলো প্রশাসনকে দ্রুত নিরপক্ষ তদন্ত করে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পুলক কুমার শিকদার বলেন, এত পুরাতন বিষয় আমি কিছুই জানি না। তারপরে বিষয় গুলো খতিয়ে দেখা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স¤্রাট হোসেন বলেন, বিষয় গুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, কোন দুনীর্তির বিষয়, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ রকম কোন ঘটনা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..