1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন

ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সমন্বয় করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ বার পঠিত

মোঃ রাজন মাদবর :

কুরআনের আলোয় আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং পবিত্র কুরআনের হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মানিত করার প্রত্যয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ১৪তম হিফযুল কুরআন অ্যাওয়ার্ড ও কুরআন উৎসব। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিভিন্ন শাখার ১ হাজার ৭৫৯ জন হাফেজ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের পিতা-মাতাকেও বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী সংগীত, আলোচনা ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন। এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামী চিন্তাবিদ, আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক হাফেজ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে হাফেজ শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ, পাগড়ি বা স্কার্ফ এবং অ্যাওয়ার্ড ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। সন্তানদের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ত্যাগ, পরিশ্রম ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়। আয়োজকদের এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অর্জনের পাশাপাশি তাঁদের পেছনে থাকা পরিবারের অবদানও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানস্থলে হাফেজ ছাত্রদের সাদা জুব্বা ও শুভ্র পাগড়ি এবং হাফেজ ছাত্রীদের আকাশি নীল ও সাদা পোশাকের উপস্থিতি এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের কাঁধে ছিল তানযীমুল উম্মাহর নাম ও লোগোসংবলিত উত্তরীয়। কুরআন-হাদিসের বাণীসম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও বর্ণিল সাজসজ্জায় সজ্জিত মিলনায়তনে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ।
প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা শাহজাহান আল-মাদানী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফেজ ড. এ বি এম হিযবুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ কামালুদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরি, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা হিফজুর রহমান, উত্তর বাড্ডা কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল ড. আনোয়ার হোসাইন মোল্লা এবং হাফেজ ক্বারি হাবিবুল্লাহ বেলালীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, আল-কুরআন একাডেমি লন্ডনের চেয়ারম্যান হাফেজ মুনীর উদ্দিন আহমদ, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সামসুল আলম, হাফেজ ক্বারি এ কে এম ফিরোজ, হাফেজ ক্বারি আবুল হোসাইন এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ কামিল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা ফাইযুল্লাহ। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যাপক মুফতি ড. আবু ইউছুফ খান।
তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তামীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন।
এ অধিবেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার চেয়ারম্যান হাফেজ নেছার আহম্মেদ আন নাছিরি, ইসলামী স্কলার হাফেজ মুফতি আলী হাসান উসামা, আল ফাতাহ পাবলিকেশন্সের চিফ অপারেটিং অফিসার শওকত মোস্তফা, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক হারুনুর রশিদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারি গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ, ইসলামী স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ ওলীউর রহমান চিশতি, ড. মীম আতিকুল্লাহ, সিনিয়র ডিরেক্টর আ.ন.মু. রাশিদুল ইসলাম সায়েম, মুহা. আসলাম মিয়া, পরিচালক মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ আল-আমিনসহ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল, শাখাপ্রধান, শিক্ষক, সাংবাদিক, শুভাকাঙ্ক্ষী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, হিফযুল কুরআন অ্যাওয়ার্ডের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শেখা এবং কুরআনের শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
কুরআনের প্রতি ভালোবাসা, হিফযের মর্যাদা এবং অভিভাবকদের অবদানকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ১৪তম হিফযুল কুরআন অ্যাওয়ার্ড ও কুরআন উৎসব। আয়োজনে অংশ নেওয়া হাফেজ শিক্ষার্থীদের অর্জন ও উপস্থিতি কুরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করার প্রত্যয়কে আরও জোরালো করে তোলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..