1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

ওসমানী মেডিকেলের মুদ্রণসামগ্রী ক্রয়ের দরপত্রে বড় ধরনের অনিয়ম ​উপ-শিরোনাম: সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ; নেপথ্যে কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের কোটি টাকার সিন্ডিকেট

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

 

লাকী আহমেদ

​সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুদ্রণসামগ্রী ক্রয়ের দরপত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দরপ্রস্তাব, কারিগরি যোগ্যতা ও আর্থিক গ্রহণযোগ্যতার তথ্যে চরম অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও হাসপাতালের পরিচিত দালাল চক্রের যোগসাজশে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

​দরপত্র সংক্রান্ত মূল তথ্য:
​দরপত্র আইডি (ই-জিপি): ১৩১৮২৫০
​রেফারেন্স: Somch/Printing Items/2026/890
​প্রাক্কলিত ব্যয়: ৩৭ লাখ ২৭ হাজার ৪怖০ টাকা
​দরপত্র জমা ও খোলার তারিখ: গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ (মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়)।
​মূল অনিয়ম ও কম দরদাতাদের বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা:

​১. নিয়ম লঙ্ঘন: নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন যোগ্য দরদাতাকে কাজাদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও মূল্যায়নে পেছনের সারিতে থাকা প্রতিষ্ঠানকে বিজয়ী করার প্রক্রিয়া চলছে।
২. কম দরদাতাদের ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা:
​দরপত্র নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে কম দর হাঁকিয়েছিল ‘এম/এস মির্জা এন্টারপ্রাইজ’ (৩৪ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা), ‘এম/এস রাসেল ট্রেডস’ (৩৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩ টাকা) এবং ‘এম/এস রাফি ট্রেডস’ (৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৯২.৫০ টাকা)।
​মূল্যায়ন কমিটি এই তিন প্রতিষ্ঠানের দরকে গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন সীমার নিচে থাকার অজুহাত দেখিয়ে ‘আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়’ এবং ‘অস্বাভাবিক কম’ (Significantly Low-Priced) হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
​অন্যদিকে প্রাক্কলিত ব্যয়ের কাছাকাছি দর দেওয়া ‘এম/এস মেডিকেল সার্জিক্যাল’ (৩৬ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা)-কে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
​টেন্ডার সেকশনে ঢাকা সিন্ডিকেট ও কর্মকর্তা-দালাল

​হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্রে ও স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগে জানা যায়, ওসমানী মেডিকেলের টেন্ডার সেকশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
​ঢাকার ঠিকাদারদের প্রাধান্য ও স্থানীয়দের বঞ্চিত করা: অভিযোগ উঠেছে, টেন্ডার সেকশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে সিলেটের স্থানীয় কোনো যোগ্য ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয় না। সবসময় ঢাকা কেন্দ্রিক বিশেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপ করে সব বড় কাজের ভাগ বাটোয়ারা করা হয়।

​স্টোর অফিসার ওয়াহিদ ও কোটি টাকার সম্পদ: হাসপাতালের স্টার অফিসার ওয়াহিদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত থাকা এবং নেপথ্যে ঢাকাভিত্তিক সিন্ডিকেটের পার্টনার হিসেবে কাজ করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, এতিমখানার স্কুলের ৩ তলা ভবন নির্মাণ এবং বাইপাস এলাকায় আনুমানিক এক কোটি টাকার জমিসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি। হাসপাতালে তার এই অপকর্মের বিষয়টি সর্বজনবিদিত।

​স্বজনপ্রীতি ও অন্যকে বাধা প্রদান: উক্ত কর্মকর্তা তার ভাতিজাকে সাথে নিয়ে একই অফিসে কাজ পরিচালনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও টাকা-পয়সার প্রভাবে অন্য কাউকে এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেন না বা বাধাগ্রস্ত করেন।

জুমের আলী ও ওয়াহিদ এর বক্তব্য নিতে চাইলে তাদের মোঠোফোনে পাওয়া যায় নি।
বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

​দালাল চক্রের সক্রিয়তা: এ ছাড়া এই পুরো প্রক্রিয়ায় ওসমানী মেডিকেলের বহুল আলোচিত দালাল জুমের আলী ও ওয়াহিদ চক্র নেপথ্যে থেকে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ লেনদেনের মধ্যস্থতা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..