কক্সবাজারপ্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের কার্যক্রমে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মহেশখালী উপজেলার ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি ১৯৫৪ সালে বন বিভাগের কাছে ১০০ বছরের জন্য হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৫৭ সালে গেজেটের মাধ্যমে এলাকাটিকে সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প’ (এসসিআরডিপি)-এর আওতায় ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সংরক্ষিত বনভূমির মধ্য দিয়ে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। বেলার অভিযোগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা ও বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে সংরক্ষিত বনভূমির গাছপালা ও পাহাড় কেটে এরই মধ্যে সড়কের কিছু অংশ নির্মাণ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে এবার আসামি হচ্ছেন মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবাল
আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে এলজিইডির সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ এবং তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনবহির্ভূত, আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না।
একই সঙ্গে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে প্রস্তাবিত ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ বাতিল, ইতোমধ্যে নির্মিত সড়কের পাকা অংশ অপসারণ এবং মহেশখালী পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর সংরক্ষিত বন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন শান্তা। সরকার পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মামলার বিবাদীরা হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।
বেলার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেলার পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়। সংরক্ষিত বনের ভেতর কোনোভাবেই সড়ক নির্মাণ করা যায় না। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বনভূমি উজাড়ের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হবে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।