1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ২০ অস্বছল নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত
১৩

গাইবান্ধাপ্রতিনিধি,

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জুগিয়াপাড়া গ্রামের আদিবাসী কাজলী মার্ডের দিন শুরু হয় সংগ্রাম দিয়ে শেষও হয় অনিশ্চয়তার হিসাব কষে। স্বামী ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন তা দিয়ে কোনোভাবে সংসারের চাকা ঘোরে। কিন্তু তিন মেয়ের লেখাপড়ার খরচ, খাবার, পোশাক আর নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয় এই পরিবারকে। অভাবের চাপ যতই বাড়ুক, মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কথা কখনো ভাবেননি কাজলী। বরং নিজের কষ্ট আড়াল করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নটাকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সেলাইয়ের কাজ শেখার আগ্রহ থাকলেও একটি সেলাই মেশিনের অভাবে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। অবশেষে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন তার জীবনে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার বার্তা।

সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত কাজলী মার্ডে বলেন, “অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল সেলাইয়ের কাজ করে কিছু আয় করব। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় মেশিন কিনতে পারিনি। এখন এই মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করতে পারব। সংসারে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারব, মেয়েদের পড়াশোনার খরচও বহন করা সহজ হবে।”

শুক্রবার (২৪ জুলাই ) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার ২০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও দুইটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ও গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, “আমরা সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছি অসহায় ও অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে। একজন নারী যদি নিজের ঘরে বসেই আয় করতে পারেন, তাহলে তার পুরো পরিবার উপকৃত হবে। এই সেলাই মেশিনকে আপনারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ আপনাদের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি আপনাদের হাতে একটি করে গাছও তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই সেলাই মেশিনের মাধ্যমে যেমন নিজের ও পরিবারের উন্নয়ন করবেন, তেমনি গাছগুলোরও যত্ন নেবেন।”

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: তামশিদ ইরাম খান, গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল কবির মনু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন দিপু, থানা মহিলা দলের সভাপতি মঞ্জুরি আহমেদ, গোবিন্দগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন গোলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিনহাজুল তালুকদার, থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোবিন্দ কুমার, থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনির হোসেন সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাদিসুর রহমান, গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক শিবলী কায়েস মীরসহ স্থানীয় সাংবাদিক, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তামশিদ ইরাম খান বলেন, “আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, বসুন্ধরা গ্রুপের মতো একটি বৃহৎ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গোবিন্দগঞ্জকে বেছে নিয়েছে। এ উদ্যোগের সুবিধাভোগীদের মধ্যে সাঁওতাল নারীরাও রয়েছেন, যা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বসুন্ধরা গ্রুপের এই মানবিক উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বলেন, “অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সেলাই মেশিন পেয়ে অনেক নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘ এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবে।”

পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল কবির মনু বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘ অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে নারীদের পাশাপাশি স্থানীয় অসচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা সহযোগিতা পেলে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ মানুষের কল্যাণে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন দিপু বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি বসুন্ধরা শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আজ যারা সেলাই মেশিন পেয়েছেন, তারা শুধু একটি কর্মসংস্থানের উপকরণই পাননি, এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তা হিসেবে গাছের চারাও পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনারা সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলবেন এবং একই সঙ্গে গাছগুলোরও যথাযথ পরিচর্যা করবেন। একটি গাছ যেমন পরিবেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলে, তেমনি একটি সেলাই মেশিন একটি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ খুলে দিতে পারে।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে তিম মাস প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা নারীরা বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসাবে সেলাই মেশিন ও গাছের চারা পেয়ে পরিবারকে স্বচ্ছল করার দৃঢ প্রত্যয়ে বাড়ি ফেরেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..