1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় হাঁসের বাচ্চা ফূটানোর হ্যাচারী দিন দিন জনপ্রিয় উঠছে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত
২০

মির্জা আব্দুর রব বুলবুল, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ-নদী, খাল ও বিল এতিনে গঠিত হয় চলনবিল। বাংলাদেশ ঐতিহাসিক চলনবিল সারা দেশের মানুষের কাছে শস্য ও মৎস্য ভান্ডার হিসেবে সু-পরিচিত। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ এদেশের শতকরা ৮০% লোক কৃষি নির্ভর কৃষি তাদের একমাত্র জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। কৃষি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের মুল চালিকা শক্তি। বর্তমানে হাঁস পালন লাভজনক হওয়ায় এ এলাকায় দিন দিন বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর জন্য হ্যাচারী গড়ে উঠছে। চলনবিল এলাকার স্ব-স্ব উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের তথ্য মোতাবেক বিল এলাকায় প্রায় ৯শতাধিক হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর হ্যাচারী রয়েছে। চলনবিল এলাকার ৯টি উপজেলা হ’ল তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমহর, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই উল্লেখযোগ্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শতশত লোকজন এ এলাকায় বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চা কেনার জন্য আসছেন। তারা প্রতিদিন হ্যাচারী থেকে হাজার হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনে যাচ্ছেন দুর-দুরান্তে। বর্তমানে হাঁস পালন লাভজনক হওয়ায় হাঁসের বাচ্চার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ পেশায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ (দশ) হাজার পরিবার সম্পৃক্ত রয়েছেন। চলনবিল এলাকায় হাঁসের হ্যাচারী হওয়ায় এ এলাকার ১০ (দশ হাজার) বেকার ছেলে-মেয়েদের নতূন কর্ম-সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ হাঁসের হ্যাচারীগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে এলাকাবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস। বিশেষ করে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেশরৌহালী গ্রামে বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন খামার (হ্যাচারী) গড়ে উঠেছে। মহেশরৌহালী হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রিতে সারা দেশের মধ্যে বিখ্যাত মোকাম বা বাজার হয়ে উঠেছে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে এ গ্রামটিতে ছোট বড় সব মিলে প্রায় ১১০ টি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন খামার (হ্যাচারী) গড়ে উঠেছে। এখানকার খামার মালিকগণ আগে অন্য পেশায় কাজ কিংবা ব্যবসা বাণিজ্য করতেন বলে জানা যায়। এ খামারগুলো হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন হ্যাচারী নামে সমাজে পরিচিত লাভ করেছে। সর্ব প্রথম আজ ছাড়া ২২ বছর আগে মোঃ আলীম ফকির (৪৬) মহেশরৌহালী গ্রামে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের খামার প্রতিষ্ঠা করেন। তার খামার (হ্যাচারী) টি চলনবিল এলাকার সবচেয়ে বড় খামার (হ্যাচারী)। এ হ্যাচারীতে প্রতিদিন হাঁসের ফুটানোর মৌসুমে গড়ে ৫ (পাঁচ) ১০ (দশ) হাজার ডিম থেকে বাঁচ্চা ফুটানো হয় বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান। প্রতিটি বাচ্চার মুল্য-৩৩/-টাকা থেকে ৩৫/-টাকা দরে বিক্রয় করছেন। প্রতিবছর ফাল্গুন থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর উপযুক্ত সময়। এছাড়া এ গ্রামে গড়ে উঠেছে আরোও কয়েকটি খামার মালিক হলেন,আলামিন ফকির, রিপন ফকির, আলতাব ফকির, মোস্তাফা প্রাং। এ সকল খামারীরা পাবনা, সিংড়া, নাটোর, ফরিদপুর, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম কিনে আনেন বলে জানান। বাংলাদেশের সকল জেলা থেকে হাঁস ব্যবসায়ী এসে হ্যাচারীগুলোর উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা পাইকারী ও খুচরা কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায় বলে জানান। কিছু কিছু ফড়িয়া হাঁস ব্যবসায়ী এদের কাছ থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করে থাকেন। এদিকে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও খামারীগণ সরাসরি মহেশরৌহালী গ্রামে এসে হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে যান। এছাড়া এ উপজেলার অন্যান্য গ্রামে কিছু হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে হ্যাচারী রয়েছে বলে জানা যায়। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায় গ্রামীণ মহিলারা হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক মহিলাদের সাথে কথা বলে জানা হাঁস পালন লাভজনক হওয়ায় তারা ১০০ থেকে ২০০টি করে হাঁসের বাচ্চা কিনে যাচ্চেন। সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় তারা এ হাঁস পালন করবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বলেন হাঁস পালনের বিষয়ে কোন খামারী যদি আমার কাছে আসে তাহলে তাকে সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..