1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন

‘ট্রাম্প কার্ড’ কারা, মরুর বুকে তিন দলের লড়াইয়ে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত

ক্রীড়া ডেস্ক :

তিনটি ভিন্ন দেশ, তিনটি ভিন্ন ভূমিকা। কেউ উইকেটে শক্ত খুঁটি হয়ে দাঁড়িয়ে রানের মহাকাব্য লেখেন, কেউ গতির আগুনে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন, আর কেউ বা অসমান বাউন্সে ব্যাটারদের বুকে কাঁপুনি ধরান। আসন্ন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তানের রহমত শাহ, বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ এবং জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি; এই তিন ক্রিকেটারই হতে পারেন নিজ নিজ দলের সবচেয়ে বড় ‘ট্রাম্প কার্ড’। যার যার খেলায় নিজস্ব ধারা বজায় রেখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সব ক্ষমতাই রয়েছে তাঁদের হাতে।

আফগান ব্যাটিং লাইনের অন্যতম ভরসার প্রতীক রহমত শাহ। অযাচিত ঝুঁকি না নিয়ে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে তোলা এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি বুঝে চড়াও হওয়াই তাঁর খেলার ধরণ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সম্প্রতি অপরাজিত ১৪৩ রানের ইনিংসটিই প্রমাণ করে তিনি দলের জন্য কতটা কার্যকর।

সেদিকউল্লাহ আতালকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলা ২০১ রানের সেই ঐতিহাসিক জুটি এবং ১৩৩ বলে ১৩টি চার ও ২ ছক্কার মার; আফগানদের টপ-অর্ডারে তাঁর গুরুত্ব পরিষ্কার করে দেয়। এই টুর্নামেন্টেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিপর্যয় সামাল দেওয়া কিংবা বিশাল সংগ্রহের ভিত তৈরিতে রহমতের ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে থাকবে আফগানিস্তান।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের ৫০ ওভারের দলে ফিরলেও লাল বলের ক্রিকেটে নিয়মিত আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর দেখানো ধারাবাহিকতা ও বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলের ক্রিকেটেও দেখতে মুখিয়ে রয়েছে দেশবাসী। সুইং, নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং ব্যাটারদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করায় হাসানের জুড়ি মেলা ভার।

নতুন বলে শুরুর ধাক্কা দেওয়া কিংবা মাঝের ওভারে রান আঁটকে রাখা; সব ভূমিকাতেই তিনি কার্যকর। টেস্টের সেই আত্মবিশ্বাস ও ছন্দ ওয়ানডেতে ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণে নতুন শক্তি যোগ হবে, যদিও একাদশে তাঁর চূড়ান্ত জায়গা হওয়া নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জিম্বাবুয়ে দলের মূল বোলিং অস্ত্র ব্লেসিং মুজারাবানি তাঁর বাড়তি উচ্চতা ও গতি দিয়ে যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারেন। পিচ থেকে অস্বাভাবিক বাউন্স আদায় করে ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলা তাঁর সহজাত দক্ষতা। তবে স্রেফ বাউন্স নয়, কড়া লাইন-লেংথে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই হবে তাঁর আসল মূলমন্ত্র।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত সিরিজে খুব একটা প্রভাব ফেলতে না পারলেও, এর আগে জুলাই মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে টাইগার ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছিলেন তিনি। মরুভূমির কন্ডিশনে শুরুতে ব্রেক-থ্রু এনে দিয়ে জিম্বাবুয়ের জয়ের পথ তৈরি করার বড় দায়িত্ব থাকবে তাঁর কাঁধেই।

ফলে মরুর বুকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ত্রিদেশীয় সিরিজে এই তিন তারকার দ্বৈরথ তৈরি করবে বাড়তি উন্মাদনা। দিনশেষে কে নিজের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে দলকে হাসাতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..