1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

নেপালে ধেয়ে আসছে নতুন বিপর্যয় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে , সতর্ক করল চীন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ;

তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নতুন করে বড় ধরনের বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে চীন। দেশটির পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট একটি ‘বাধ হ্রদ’ (ব্যারিয়ার লেক) আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে যেতে পারে। এতে নিচের দিকে ফের আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অভ্যন্তরীণ ‘চোচেন খোলা’ ও ‘পুরেপু স্যাংপো’ নদীর সংযোগস্থলের কাছে এই প্রাকৃতিক হ্রদটি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল এবং সেটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে।

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক বাঁধের ওপর পানির চাপ দ্রুত বাড়ছে। বিশাল এই পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে বাঁধটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে ভাটির দিকে থাকা নেপালের ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় এক প্রলয়ঙ্কারী জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসবে।

এদিকে নতুন এই দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে নেপালের সিন্ধুপালচক এবং রাসুয়া জেলা প্রশাসন নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। সীমান্ত এলাকায় নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীএবং সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমন্বিত পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্র (আইসিআইএমওডি)-এর হিমবাহবিদ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৭২ ঘণ্টা তাই দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয় অঞ্চলের খাড়া ভূপ্রকৃতি, ভারী বৃষ্টিপাত, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং ভূমিধস—সবকিছু মিলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

তারা সতর্ক করেছেন, একটি বাধ হ্রদ হঠাৎ ভেঙে গেলে কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে ধেয়ে যেতে পারে। এতে নদীর তীরবর্তী বসতি, সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রসঙ্গত, এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তিব্বত ও নেপালের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ইতোমধ্যে প্রাণহানি বেড়ে ২৮৯ জনে দাড়িয়েছে। এছাড়াও বন্যা ও কাদার স্রোতে ভেসে গিয়ে দেশটিতে এখনো ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত অংশেও ৩ জনের মৃত্যু এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।

ইতোমধ্যে চীন ও নেপাল উভয় দেশই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, অব্যাহত বৃষ্টি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলছে।

সূত্র: দ্য হিমালিয়ান, এনডিটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..