নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও দ্রুত বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শেফালী আক্তার
ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক অপু-এর বিরুদ্ধে বিচারাধীন দুটি মামলার প্রেক্ষিতে দ্রুত বিচার, আইনানুগ প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেফালী আক্তার, যিনি নিজেকে ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী হিসেবে পরিচয় দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেফালী আক্তার বলেন, তার অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৯/২৩) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা (মামলা নং-১৩১৫৭/২৩) বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, ২০১৪ সালে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর ২০১৯-২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গভীর হয় এবং ২০২১ সালে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও তার সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং ব্যক্তিগত জীবনে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। পরে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।
শেফালী আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। তাই তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রতি বিচারাধীন মামলার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিসমূহ:
– বিচারাধীন অভিযোগের বিষয়ে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
– অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
– শিক্ষক নিয়োগের আগে বাধ্যতামূলক ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন কার্যকর করা।
– নারী নির্যাতন, সাইবার অপরাধ ও পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
– শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা ও তদারকি জোরদার করা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ বক্তব্যে শেফালী আক্তার বলেন, “আমি শুধু আমার জন্য নয়, দেশের প্রতিটি নারী ও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে ন্যায়বিচার চাই। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো নারী আমার মতো প্রতারণা, নির্যাতন ও সামাজিক অপমানের শিকার না হন।”
তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি সুষ্ঠু তদন্ত, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক অপুর বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।