1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রবেশগম্য সাইক্লোন শেল্টার নিশ্চিতের তাগিদ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার বার্তা পেলেই উপকূলের লাখ লাখ মানুষের মতো আশার আলো হয়ে ওঠে নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনোমতে আশ্রয় পেলেও সেখানে চরম ভোগান্তিতে পড়েন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শিশুরা।

অনেক সময় কেবল প্রবেশগম্যতার অভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতেই পারেন না তারা। অবকাঠামোগত এই প্রতিবন্ধকতা দূর করে সাইক্লোন শেল্টারগুলোকে সবার জন্য সুগম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে এক জাতীয় কর্মশালায়।
বুধবার (২২জুলাই) রাজধানীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মাল্টি-পারপাস হলে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘সাইক্লোন শেল্টারের প্রবেশগম্যতার বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক এই অবহিতকরণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

উপকূলীয় বাস্তবতার করুণ চিত্র উঠে আসে কর্মশালায় উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে।

অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের হেড অব প্রোগ্রাম মো. সোহেল রানা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ২৫টি সাইক্লোন শেল্টারে পরিচালিত নিবিড় জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। সংযোগকারী সড়ক, র‍্যাম্প, টয়লেট, জরুরি নির্গমন পথ ও পানির সুবিধাসহ ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিচালিত এই মূল্যায়নে দেখা যায়—প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে প্রবেশগম্যতার বড় বাধা।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্রেই হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী ঢালু র‍্যাম্প নেই, দরজার মুখগুলো অপ্রশস্ত এবং সিঁড়িগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি সময়ে হুইলচেয়ার ঘুরানোর মতো টয়লেটের জায়গা না থাকা, সুপেয় পানির অভাব এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্পর্শকাতর (টেকটাইল) বা ব্রেইল সাইনেজের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। এমনকি প্রথম সাড়াদানকারী বা আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের মাঝেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জরুরি সহায়তার ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

এই পরিস্থিতি উত্তরণে কর্মশালা থেকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ এবং ‘সার্বজনীন ডিজাইন’ নীতি অনুসরণ করে বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—র‍্যাম্পের ঢাল সর্বোচ্চ ১:১২ রাখা, সংযোগ সড়ক ও প্রবেশপথ যথেষ্ট চওড়া করা, ৫ ফুট দ্ধ ৫ ফুট আয়তনের সুগম টয়লেট ও গ্র্যাব বার স্থাপন এবং শব্দ, দৃশ্য ও স্পর্শভিত্তিক বহুমাত্রিক আগাম সতর্কবার্তা চালুর জোর দাবি জানানো হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকার নতুন সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের যে পরিকল্পনা করছে, তাতে এই গবেষণার সুপারিশমালা অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ ও সবার জন্য উন্মুক্ত করতে এগুলো সরাসরি কাজে লাগানো হবে।

বিশেষ অতিথি অধিদফতরের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পরিতোষ হাজরা বলেন, প্রবেশগম্যতাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে। এ উদ্দেশে অধিদফতরের ওয়েবসাইটে একটি ডেডিকেটেড ‘জ্ঞান ভাণ্ডার’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। অন্যদিকে পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকার এ ধরনের গবেষণাকে দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

কর্মশালার সঞ্চালক ও অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা সমাপনী বক্তব্যে বলেন, একটি সাইক্লোন শেল্টার তখনই সফল হয়, যখন দেশের প্রতিটি নাগরিক সেখানে নিরাপদে প্রবেশ করতে, অবস্থান করতে এবং দুর্যোগ শেষে বাড়ি ফিরতে পারেন। আমাদের চমৎকার নীতিমালা আছে, এখন দরকার কেবল সঠিক বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ।

সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে এই কর্মশালা শেষ হয় একটি সমন্বিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি সাইক্লোন শেল্টার হবে প্রতিটি মানুষের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আশ্রয়ের ঠিকানা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..