নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মদনে ধানের জমিতে হাল চাষ করতে অপারগতা প্রকাশ করায় পাওয়ার টিলার ড্রাইভারের ভাই রাজন মিয়া ( ২৮) ও তার চাচা মানিক মিয়া (৫০)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় শাহেদ আলী( ৫০)কে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে গোলাম রব্বানী (৩৪) বাদী হয়ে মদন থানায় এক মামলা দায়ের করেছেন তাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনাটি ঘটেছে রোজ শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী মনিকা পশ্চিম পাড়া গ্রামে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, কদমশ্রী মনিকা পশ্চিম পাড়া গ্রামে মৃত ফেরদৌস তালুকদারের ছেলে শাহান (২২) তার নিজেদের জমি হাল চাষ করেন পাওয়ার টিলার দিয়ে। সে অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হওয়ায় লেখা পড়ার পাশাপাশি অন্যদের ও
কিছু জমি টাকার বিনিময়ে হাল চাষ করে দেন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে প্রতিবেশী গেনেদা আক্তারের (৪৫) এর একটা জমি হাল চাষ করে দিতে বলেন,শাহান মিয়াকে।
শাহান মিয়া বলেন, আমার পরীক্ষা আছে, আমি আজকে বাড়ি থেকে চলে যাব পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চলে যাব কৃষ্ণপুরে।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ গেনেদা ডাক্তার ও তার স্বামী সাহেদ মিয়া কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে
ক্ষিপ্ত হয়ে পাওয়ার টিলারের ডাইভার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাহানের বড় ভাই রাজন মিয়া ও চাচা মানিক মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে জখম করে
গেনেদা আক্তারের স্বামী সাহেদ মিয়া ও তার লোকজন মিলে।
পরে রক্তাক্ত অবস্থা স্বজনেরা দুজনকেই উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই ভর্তি করেন।
বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনা প্রতিপক্ষ গেনেদা আক্তারের মেয়ে পাখি আক্তার (২৫)বলেন, তাদের সাথে আমাদের পূর্ব থেকেই জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমি হাল চাষ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় শাহান এর সাথে।
এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়লে দু’পক্ষের মধ্য মারামারি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারুক তালুকদার তিনি বলেন, আমার ভাতিজা সাহান বলেছে তার পরীক্ষা আছে এখন আর হাল চাষ করতে পারবো না।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাহান কে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মারতে আসে গেনেদার স্বামী শাহেদ ও তার লোকজন মিলে।
পরে আমার ছেলে রাজন ও তার চাচা মানিক মিয়া ঝগড়া ফিরাইতে গেলে দুজনকে ধারালো অস্ত্র রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে শাহেদ মিয়া ও তার লোকজন মিলে।
গেনেদা প্রতিবছরেই মানুষের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলা করে এটা তার পেশা।
এখন আমাদের লোকজনের অবস্থা গুরুতর দেখে তাদেরকে নিজের শরীর ব্লেড দিয়ে চিরে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনা আমরা আইনের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন।
মদন থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ সালাহ উদ্দিন করিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।