নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল টেকনিশিয়ান আতিকের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল চিকিৎসার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ বাহিরে নিয়ে ব্যক্তিগত চেম্বার বসিয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সরকারি নির্দেশনা না মেনে, সরকারি অফিস সময়ে রোগী না দেখে অফিস সময় ফাঁকি দিয়ে বাহিরে ডেন্টালের রোগী দেখার অভিযোগ আতিকের বিরুদ্ধে।
মদন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল টেকনিশিয়ান আতিক ডেন্টালে চিকিৎসা প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না রেখে তার ব্যক্তিগত পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে চেম্বারে রেখেছেন। টাকার বিনিময় প্রাইভেট চিকিৎসা দিচ্ছেন এমন অভিযোগ একাধিক তার বিরুদ্ধে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টালের রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসলে টেকনিশিয়ান আতিক বলে ডেন্টালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী হাসপাতালে নাই।
আপনারা আমার ব্যক্তিগত চেম্বার আসেন
মদন পুরাতন বাস স্টেশনে সব ধরনের ইকুপমেন্ট এবং মেডিসিন আছে। দুপুর ২ট থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ডেন্টালে রোগী দেখা হয়।
ডেন্টালের যত ধরনের চিকিৎসা সামগ্রিক ওষুধ লাগে সব আমার ব্যক্তিগত চেম্বারে আছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা পাবেন না।
রোগীরা বাধ্য হয়ে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে টাকার বিনিময় চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য যেতে হচ্ছে।
ডেন্টাল টেকনিশিয়াল আতিক অফিস সময় ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত রোগী দেখার কারণে একাধিক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ নিচ্ছেন না তার বিরুদ্ধে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, ডেন্টাল টেকনিশিয়াল আতিক সকাল ৮:৩০ মিনিট হইতে দুপুর ২:৩০মিনিট পর্যন্ত তার সরকারি অফিস সময় উপজেলা হাসপাতালে থাকার কথা।
কিন্তু তার ব্যক্তিগত চেম্বারের সাইনবোর্ডে লিখা রয়েছে, দুপুর ২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ডেন্টালের রোগী দেখা হয়।
ডেন্টালের একজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায় , হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসা নিতে আসলে
বলে ওষুধ নাই, ইকুপমেন্ট নাই ,আপনার আমার চেম্বার আসেন। ওখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসা করাইলে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হয়।
কি আর করবো দাঁতের ব্যাথা শুরু হলে বাধ্য হয়ে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে হচ্ছে।
ডেন্টাল টেকনিশিয়ান আতিক অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত রোগী দেখছেন ।
ব্যক্তিগত চেম্বারে টাকার বিনিয়োগ এর প্রতি উত্তরে ডেন্টাল আতিক জানায় দুপুর ২টার সময় আমার অফিস শেষ ।এরপর থেকে আমি রাত আটটা পর্যন্ত রোগী দেখি। এটা আমার ব্যক্তিগত সময় এবং ব্যক্তিগত ইনকাম।
হাসপাতালের ডেন্টালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী আপনি ব্যক্তিগত চেম্বারে কি করে নিলেন।
এর প্রতি উত্তরে বলে এসব জিনিসপত্র আমার ব্যক্তিগত কিনা।
দাঁতের ব্যাথা নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে অনেক রোগী আসলে ও সেবা পাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার শাহরিয়ার বলেন, অফিস সময় ফাঁকি দিয়ে বাহিরে রোগী দেখার একাধিক প্রমান পাওয়া গেছে ডেন্টাল টেকনিশিয়ান আতিকের বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানানো হয়েছে। হাসপাতালের ডেন্টালের ইকুপমেন্টের তালিকা দেখে বলা যাবে ব্যক্তিগত চেম্বার হাসপাতালের ইকুপমেন্ট নিয়েছে কিনা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ( পঃপঃ)কর্মকর্তা ডাক্তার নুরুল হুদা খান বলেন, আতিক ব্যক্তিগত সাইনবোর্ডে লিখেছেন ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি রোগী দেখেন। ওখানে তো সরকারের ৩০ মিনিট বা আধা ঘন্টা সময় ফাঁকি এটাই তো একটা বড় ধরনের অপরাধ। অফিস সময়ে বাইরে রোগী দেখা সম্পূর্ণ নিষেধ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে।
তিনি হাসপাতালের রোগী তার ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে গিয়ে দেখেন ।
ছুটির কথা বলে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। বিষয়টা আমরা শুনেছি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।