কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ী উপজেলার ঘুমধুমে ইয়াবা পাচারকে কেন্দ্র করে এক সিএনজি চালককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাস্টার শাহা আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রফিক উদ্দিনের দাবি, সিএনজিতে রাখা একটি ব্যাগে ইয়াবা থাকার কথা জানার পর থেকেই তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি তাঁর স্ত্রী-সন্তানদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন।
একজন অসহায় দরিদ্র সিএনজি চালক রফিক উদ্দিন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সিএনজি নিয়ে বের হন রাস্তায়। কিন্তু একটি ব্যাগকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর এখন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে তাঁর।
রফিক উদ্দিনের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ী উপজেলার উত্তর ঘুমধুমের আজুখাইয়া এলাকায়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা মৃত আমির হোসেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর দুপুর দুইটার দিকে সিএনজি মেরামতের জন্য কুতুপালং স্টেশনে যাওয়ার পথে মাস্টার শাহা আলম তাঁর গাড়ির পেছনের অংশে একটি পলিথিনের ব্যাগ রেখে দেন। পরে ব্যাগটি কুতুপালং বাজার থেকে নিয়ে নেওয়া হবে বলে তাঁকে জানানো হয়।
রফিক উদ্দিনের ভাষ্য, পথে একটি মোটরসাইকেল তাঁর সিএনজির গতিরোধ করে। মোটরসাইকেল থেকে নেমে এক ব্যক্তি তাঁকে থাপ্পড় মারেন এবং ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তিনি কৌশলে সেখান থেকে সরে যান। পরে ফিরে এসে দেখতে পান, গাড়িতে রাখা ব্যাগটি আর নেই।
এ বিষয়ে মাস্টার শাহা আলমকে জানালে, ওই ব্যাগে ১২ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল বলে তিনি জানতে পারেন—এমনটাই দাবি রফিক উদ্দিনের।
এরপর থেকেই তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান বলে জানান তিনি। পরে তাঁকে না পেয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রফিক।
এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে অভিযুক্ত মাস্টার শাহা আলমের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
পুলিশি বক্তব্য
ঘটনাটি সম্পর্কে ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
একজন দরিদ্র সিএনজি চালকের অভিযোগ, একটি ব্যাগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনার পর এখন তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা, ব্যাগে ইয়াবা থাকার বিষয়টি এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।