মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে ডেকে নিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার মধ্যরাতে সদর উপজেলার পশ্চিম গুজুরী গ্রামের একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। আহত বশিরকে প্রথমে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বশির মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার সন্ধ্যায় বশিরের বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় আকাশ (২১), তুহিন (২২), আরিফ (২২) ও তানজিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, পূর্ববিরোধের জেরে বশিরকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। বশিরের বাবা মনির হোসেন জানান, রোববার রাতে পশ্চিম গুজুরী গ্রামের আকাশ তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা বেতিলা মেঘবাড়ি রেস্টুরেন্টে সময় কাটান। রাতের দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে আহত অবস্থায় বশিরের খবর পান তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মনির হোসেন বলেন, তার ছেলে আগে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। ২০২১ সালে পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতেই থাকছেন। জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তার নাম রয়েছে-এ বিষয়টিও তিনি আগে জানতেন না। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ জড়িত নয়, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরেই হামলাটি হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় সোমবার প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সভাপতি এম এ সিফাদ কোরাইশী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের দায়ী করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ। তিনি দাবি করেন, বশিরের সঙ্গে থাকা তার পরিচিত বন্ধুরাই তাকে কুপিয়ে থাকতে পারেন। মধ্যরাতে বশির কার সঙ্গে ইটভাটায় গিয়েছিলেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাদকের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেও বিরোধের সৃষ্টি হতে পারে বলে দাবি করেন ছাত্রদলের এই নেতা। একই সঙ্গে ঘটনায় বিএনপি বা ছাত্রদলের কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা বশিরের পরিচিত এবং তার সঙ্গে চলাফেরা করতেন। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।