1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন

কুমিল্লা লালমাইয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৫

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

লালমাই (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভূশ্চি বাজার এলাকায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ঘটা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার হরিশ্চরে আয়োজিত যুবদলের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পূর্বশত্রুতা ও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

​পরবর্তীকালে বিকেলে হরিশ্চরের কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভূশ্চি বাজার এলাকায় দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। এতে মোবাশ্বের ভূঁইয়া সমর্থিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীর, যুবদল নেতা মামুন ও সাদ্দাম এবং মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত বিএনপি নেতা ফরহাদ উদ্দিন ও যুবদল নেতা তামিম ইকবাল গুরুতর আহত হন।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় দফা হামলার পর ক্ষুব্ধ সাধারণ নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে চৌধুরী সমর্থিত কর্মীরা বাজার ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর ‘ভূশ্চি বাজারের মাটি, মোবাশ্বের ভাইয়ের ঘাঁটি’ শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন শত শত নেতাকর্মী।

 

​ঘটনার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোজাম্মেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ব্যক্তিগতভাবে মনিরুল হক চৌধুরীর রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে ১৩টি মামলার আসামি হয়েছি, কোটিপতি থেকে নিঃস্ব হয়েছি। বর্তমানে আমাদের এলাকার অভিভাবক ও সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। অথচ মনিরুল হক চৌধুরীর কারণেই আজ এলাকায় এই দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং তৈরি হচ্ছে।”

 

​অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে যুবদল নেতা মাকসুদুর রহমান মাকসুদ বলেন, “আলমগীর নামের ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে আমাদের নেতা মনিরুল হক চৌধুরী ও আমাকে নিয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে আসছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সে এলাকায় এসেছে, তাকে আগে কখনো বিএনপি করতে দেখিনি। বিষয়টি নিয়ে বোঝাপড়ার জন্য তাকে ভূশ্চি বাজারের একটি দোকানে নিয়ে কথা বলা হয় এবং ঘটনাটি মীমাংসাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একদল লোক এসে অহেতুক ঝামেলা পাকায়। অনুষ্ঠান শেষে তারা আমাদের ফরহাদ ভাই ও তামিম ইকবালের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”

 

​লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..