1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরে পুলিশ বক্সে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা, যুবক আটক

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১১৭ বার পঠিত
১৪২

গাজীপুর প্রতিনিধি

পুলিশ বক্সে ঢুকে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ওই সাংবাদিকের নাম হোসাইন আলী বাবু। তিনি স্টার নিউজের গাজীপুর প্রতিনিধি। এ ঘটনায় গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

হামলাকারী মো. জুয়েল (২৮) নরসিংদীর বেলাব উপজেলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভবঘুরে। চান্দানা চৌরাস্তা এলাকায় ঘোরাফেরা করতে ছিলেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপির) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশীদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহত সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবু বলেন, ‘শিল্পকারখানার শ্রমিকরা ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। সেই সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন বাবু। এ নিয়ে তিনি চ্যানেলে একটি লাইভ সম্প্রচারও করেন। লাইভ শেষ করে তিনি গাজীপুরের চৌরাস্তা পুলিশ বক্সে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় জুয়েল তার পেছনে পেছনে পুলিশ বক্সের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তখন বাবু তার নাম জানতে চান। উত্তরে জুয়েল বলেন আমি তোমাকে নাম বলবো কেন? আগে তোমার নাম বলো, তোমার পরিচয় কী? বাবু বলেন, অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি, তোমাকে নাম বলতে পারবো না। এ কথা বলতেই ‘তুই আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলি কেন’ বলে বাবুর ওপর হামলা চালান জুয়েল। পুলিশ বক্সে তখন আর কেউ ছিলেন না। চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এক পুলিশ সদস্য। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হামলাকারীকে আটক করা হয়।’

হোসাইন আলী বাবু আরও বলেন, ‌‘ওই যুবকের বিরুদ্ধে নাকি আমি কী নিয়ে রিপোর্ট করেছি। আসলে তেমন কোনও রিপোর্ট করিনি। এ নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতেছিল। একপর্যায়ে জুয়েল পুলিশ বক্সের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। আমার চিৎকার শুনে ট্রাফিক পুলিশ তাজউদ্দিন রক্ষা করেন। এই ছেলেকে আমি জীবনে দেখিও নাই, চিনিও না। তার সঙ্গে এর আগে কোনোদিন কথাও বলি নাই।’

ট্রাফিক পুলিশ সদস্য তাজউদ্দিন বলেন, ‘আমি চান্দনা চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনেই দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ বক্সের ভেতরে শব্দ শুনতে পাই। দৌড়ে গিয়ে দেখি সাংবাদিক বাবু ভাইকে মারধর করছে ওই যুবক। চেয়ার উঠিয়ে তাকে মাথায় আঘাত করতে চেয়েছিল। আমি মাঝখানে এসে ফেরানোর সময় আমার শরীরেও আঘাত লেগেছে। মাথায় আঘাত পেয়েছে, শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বাবুর। আমি নিজে তাকে রক্ষা করেছি। পরে থানায় জানালে পুলিশ এসে হামলাকারী জুয়েলকে নিয়ে যায়।’

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘অভিযুক্ত জুয়েলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম ভবঘুরে। কয়েকদিন ধরে কিছু খাওয়া-দাওয়া করেনি। তার মা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। আমরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসছি। এ ঘটনায় এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। সাংবাদিকের ওপর হামলা করেছো কেন জিজ্ঞাসা করলে বলে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছে। তবে তার বিরুদ্ধে নিউজ করার কোনও ঘটনা ঘটেনি। জিজ্ঞাসাবাদে এলোমেলো কথা বলেছে। আসলে অসুস্থ মনে হচ্ছে। আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..