টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
নারীসহ কয়েকজনকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটালেন মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। পেটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (০৩ জুলাই) থেকে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার হাতে একটি বাঁশের চিকন লাঠি, কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন।
পরে তিনি একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীর উদ্দেশে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এ সময় ওই নারী প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে ওই নারী এগিয়ে এলে তাঁকেও পেটাতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি গত ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামে বাসন্তী রানীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকারের বাড়িও একই গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মন্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন, তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তাঁর জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন।
প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তাঁর দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।
বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তাঁর চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাঁদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাঁদের কিছু জমিও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন।
সম্প্রতি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাঁদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। এতে বাধা দিলে তাঁকে, তাঁর স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।
বাসন্তী রানী বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভাষ সরকারের ভয়ে এলাকায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাঁদের অভিযোগ, সামান্য বিষয় নিয়েও তিনি লোকজনকে মারধর করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার। তিনি বলেন, ‘ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাঁদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।’
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানান, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।