1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

নাটোরে এক বানরের আক্রমনে ৩২জন আহত ,রেহাই পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৫ বার পঠিত
৫০

নাটোর জেলা সংবাদদাতা
নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লায় একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৫ জন। এই বানরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বানরটির হাত থেকে রেহাই পেতে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। গণস্বাক্ষরিত এই আবেদনকারী নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার বাসিন্দা মোঃ মিলন আখন্দ জানান, লালবাজার মহল্লার শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে তিনি একটি খ্যাপা বানরের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেছেন, ভিন্ন জায়গা থেকে এসে প্রায় তিন মাস আগে একটি খ্যাপা বানর মহল্লায় অবস্থান নিয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি বানরটি মহল্লার রাস্তা-ঘাটে বিভিন্ন ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের উপর দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রকাশ্যে এসব বাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল, খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন দোকানে ঢুকে মহল্লাবাসীকে আক্রমণ করে খাবার নিয়ে চলে যায়। এলাকার মানুষকে বাড়িতে থাকার সময় আক্রমণের ভয়ে সারাক্ষণ বাড়িঘরের দরজা দিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। .
শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময়ও বানরের আক্রমণের ভয় পাচ্ছে। এ পর্যন্ত বানরটির আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। এক কথায় বানরটির হামলায় এই মহল্লার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। লালবাজার এলাকার বাসিন্দা কাকলী রায় (৩০) নামের এক গৃহবধূ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে তিনি বাড়ির পাশের এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ বানরটি লাফ দিয়ে তার হাতে কামড় দেয়। এতে একটি আঙুলের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে অপারেশন করে তার আঙুলের রগ জোড়া দিতে হয়েছে। এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। তার প্রতিবেশী শ্রী সঞ্জয় রায় (২৫) বলেন, একদিন বানরটি তার ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খোলার চেষ্টা করছিল। তিনি দৌড়ে এসে দরজা আটকে দিতে গেলে বানরটি তার হাতের কনুইয়ের নিচে কামড় দিয়ে গর্ত করে ফেলে।

 

.
এজন্য তাকে হাসপাতালে গিয়ে সাতটা ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। একই এলাকার অপর প্রবীণ বাসিন্দা কল্যাণী পাল (৬০) বলেন, বানরটি তাদের খাবার টেবিল থেকে পাউরুটি নিয়ে পালাচ্ছিল। তিনি বাধা দিলে বানরটি তার হাতে কামড় দেয়। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আরও বয়োবৃদ্ধা পূর্ণিমা সেন (৭৫) বলেন, বানরটি বাড়িতে ঢুকে তাকেও কামড় দিয়ে গেছে। বানরটি বেশ শক্তিশালী। ওর সাথে ধস্তাধস্তি করেও পারিনি। ওর ভয়ে এখন তিনিসহ এলাকার মানুষ আতঙ্কিত থাকেন। তাদের প্রতিবেশী জিসান ও নাজমুল ইসলাম বলেন, বানরটির ভয়ে আমরা আর মহল্লার কোনো চায়ের দোকান বা খাবারের দোকানে দাঁড়াতে-বসতে পারি না। বাবা-মা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে দিতে ভীষণ ভয় পাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি।Islam

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার দায়িত্বরত নার্স পারভিন আক্তার বলেন, মাঝে মধ্যেই বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে রোগী আসছেন। গত তিন মাসে আমরা এমন ১৫ জনকে ভ্যাকসিন দিয়েছি। অনেকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। বনবিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লালবাজারের বানরটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার চেষ্টা করেও আমরা বানরটিকে ধরতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে কী করা যায় আমরা বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছি।

 

নাটোর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন রোববার বিকেলে বলেছেন, বিষয়টি তিনি জানেন। তিনি নিজে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাটোরে ডেকে আনেন। বনবিভাগের লোকজন ম্যানুয়ালি বানরটিকে ধরার চেষ্টা করে সফল হয়নি। আগামী দিনে গুলি বা অচেতন করে বানরটিকে ধরার চেষ্টা করবে বলে বনবিভাগের লোকজন জেলা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..