সিলেট প্রতিনিধি
বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার করা নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিশ্বনাথ থানায় ৯২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০-৭০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ইরন মিয়া। তিনি উপজেলার সাবান টেংরা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে।
মামলায় বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ছাড়াও জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন নেতাকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিশ্বনাথ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, সাবেক সহসভাপতি কবির আহমদ কুব্বার, যুগ্ম সম্পাদক মকদ্দুছ আলী, পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক জালাল উদ্দিনসহ অনেকে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আসামিরা রামপাশা ইউনিয়নের বিশ্বনাথ লামাকাজী পাকা সড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে রাস্তায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি করাসহ অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ৯২ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন এখলাছ মিয়া। ৬৮ নম্বর আসামি এখলাছ অলংকারি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক। ৮৮ নম্বর আসামি রনি মিয়া খাজাঞ্চি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ৮৬ নম্বর আসামি রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে রেনু মিয়া জামায়াতের সক্রিয়কর্মী।
এ বিষয়ে মামলার আসামি এখলাছ মিয়া বলেন, ‘আমার প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। মহিলারা বাড়িতে বলাবলি করছে, আমাকে নাকি একটি মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে আসামি করার সত্যতা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি ছাড়াও বিএনপির আরও কয়েকজন কর্মীকেও আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছেন একটা সমাধান হবে।’
এখলাছ মিয়া বলেন, ‘আমি মামলার বাদীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনিও আমাকে বলেন, আসামিদের নামের তালিকায় আমার নাম কীভাবে এলো, তিনি নিজেও জানেন না।’
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, এমপি শাহজাহানের সাবেক পিএসের বিরুদ্ধে মামলা
বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন ‘জামায়াত কর্মী রেনু মিয়া ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি রনি মিয়াকে এই মামলায় পরিকল্পিতভাবে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে ইরন মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান বাদী ইরন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না। জানতে হলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি দলের একজন হিসেবে সই দিয়েছি।’
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলতে পারবেন।’