চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় নিখোঁজের পর মুক্তিপণ দাবি করা নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তার নাম নাইম উদ্দিন (১৪)। সে দর্শনা থানার প্রতাপপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আব্দুল আলিমের ছেলে এবং মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার মো. রুবেল (৩৭) এবং গোদাগাড়ী থানার এলাকার মো. সুমন (৩৫)।
পরিবার ও থানায় করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার পরে নাইম প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় খেলতে বের হয়। দীর্ঘসময় পার হলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ওইদিনই নাইমের বাবা দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে নাইমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার বড় ভাই মাসুদের মোবাইলে কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, ছবিগুলোতে নাইমের মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা নাইমকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি পুলিশকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় দর্শনা থানায় এজাহার দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মামলা রুজু করে শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, মামলার পর দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল রাজশাহীতে যায়। সেখানে রাজশাহী র্যাবের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে নাইম উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে রুবেল ও সুমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
ওসি আরও জানান, আটক দুজনকে দর্শনা থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাইমকে কোথা থেকে রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছিল, তাকে আটকে রাখার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা কী, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।