আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ (এমওএবি) ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টেবর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ বোমাটির আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। প্রায় ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড বা ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই বোমাকে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এমওএবির বিস্ফোরণে বিশাল এলাকাজুড়ে তীব্র চাপতরঙ্গ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণেই বোমাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে ফের ইরানে হামলা শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী। পরিকল্পনায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় হামলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ গভীর ভূগর্ভে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে। এসব স্থাপনায় হামলার কার্যকারিতা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে নতুন করে অভিযান চালানোর বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে বড় ধরনের হামলার পাশাপাশি তুলনামূলক সীমিত সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে তারা মন্তব্য করেন না। তবে তিনি বলেছেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট সব বিকল্প খোলা রেখেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো এমওএবি ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় জঙ্গিগোষ্ঠীটির ব্যবহৃত গুহা ও সুড়ঙ্গের একটি নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়।
আফগান কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আইএসের ৩৬ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন। সেই অভিযানের পর থেকে বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রচলিত অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমওএবির বিস্ফোরণ ও চাপতরঙ্গ বড় এলাকাজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি অবকাঠামো বা অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তু জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি থাকলে সেখানে বেসামরিক নাগরিক, আবাসিক ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স