নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করে এ অনুদানের ঘোষণা দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়। তিনি জানান, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরো সহযোগিতা করার কথাও বলেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরো যদি কিছু করতে হয় তাহলে আমরা করব ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, এই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিন্দা জানিয়েছি। জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল করেছে। এই এলাকার যিনি এমপি তিনি ওমরাহ পালন করছেন। মক্কায় আছেন। দ্রুত দেশে ফিরে তিনি আপনাদের সঙ্গে মিলিত হবেন। আপনাদের পাশে দাঁড়াবেন। জামায়াতে ইসলামী মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই বিধ্বস্ত প্রতিষ্ঠানটিকে আবার উঠে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সঙ্গী হয়ে থাকব। প্রাথমিকভাবে এই প্রতিষ্ঠান যাতে তার সেবা কার্যক্রম মোটামুটি চালু করতে পারে তাদের ছয় জনের ট্রাস্টি বোর্ড আছে জানলাম আমরা তাদের সঙ্গে বসব। সেটেল করব। আপাতত এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা করলাম। আমরা আশা করছি, এই টাকাটা হাতে পেলে ভাঙা ঘরটাকে কিছুটা সংস্কার করা যাবে। কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতি কিনে আবার মা ও শিশুদেরকে সেবা দান কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার তথ্য উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
‘জুলাই যোদ্ধার স্টুডিওতে হামলা করে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলা হচ্ছে চাঁদা চাওয়া হয়নি’
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘ইসিবি চত্বরে একজন জুলাই যোদ্ধার স্টুডিওতে হামলা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। অথচ এখন ইনিয়ে-বিনিয়ে বলা হচ্ছে সেখানে চাঁদা চাওয়ার জন্য যাওয়া হয়নি। জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, যদি জমিজমা সংক্রান্ত কোনো বিরোধও থাকে, তবে রাত ১টা বা ২টার সময় গিয়ে এমন হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর বিধান কোন সংবিধানে বা আইনে রয়েছে? কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পন্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারও ব্যক্তিগত বা ব্যাবসায়িক সম্পদে সন্ত্রাসী ও গুন্ডাদের এমন তাণ্ডব চালানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া দুর্বৃত্তদের পক্ষে এত বড় অপকর্ম করা সম্ভব নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার একদিকে বলে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে, অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার, নার্স ও সাধারণ মানুষকে অপদস্থ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোহাম্মদপুরে দিনে-দুপুরে চাপাতি ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালানো দুর্বৃত্তদের এখনো আইনের আওতায় না আনার সমালোচনা করেন তিনি। ঘটনাগুলোতে কোনো ধরনের দলীয় রং না লাগিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, এমনকি আমার দলের লোকও যদি জড়িত থাকে, তাকেও যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ছাড় না দেয়।