নিজস্ব প্রতিবেদক :
চরম পর্যায়ের ভঙ্গুর দলে পরিণত হয়েছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এর চেয়েও খারাপ পর্যায়ে রয়েছে তাদের সঙ্গে থাকা জোটভুক্ত দলগুলো। এর মধ্যে নামসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম।
নামসর্বস্ব হয়েও গত ২২ জুন ড. কামাল একটি অদ্ভুত কথা বলেন। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামীতে গণফোরাম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে।
ড. কামালের এমন বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দলের নেতাকর্মী হাতে গোনা যায় সেই দলের এমন দুঃসাহসিকতা কেবল বিতর্কই সৃষ্টি করবে। ক্ষমতায় যাওয়াটা যে সুদূরপরাহত একটি বিষয় সেটি অনুধাবন করেই মনকে বুঝ দিতে ড. কামাল এমন মন্তব্য করেছেন বলে মনে করছেন তারা।
যে দল ভাড়াটে নেতাদের ভাগাড় এবং যে দলে দিন-রাত ভাঙ্গন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে সেই দলের ক্ষমতায় বসার স্বপ্নকে চক্রান্তের অংশ হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।
ড. কামালের এমন সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনায় ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ড. কামাল কিন্তু কোনদিন নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। যতবার নির্বাচন করেছেন ততবারই জামানত খুইয়েছেন। সুতরাং তার দল গণফোরাম ক্ষমতায় যাবে, এমন আবেগি মন্তব্যে ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরো বলেন, গণফোরামের রাজধানীর বাইরে তেমন কোন কার্যক্রম নেই। ড. কামাল রাজনীতি চর্চার চেয়ে কূটনৈতিক চর্চায় বেশি পারদর্শী। তিনি মাঠের রাজনীতির চেয়ে দূতাবাস কেন্দ্রিক ষড়যন্ত্রে বেশি পটু। সুতরাং তার এই বক্তব্য হাস্যকর বলে অবহেলার কিছু নেই। পচা শামুকেও পা কাটতে পারে। ড. কামালও সেই পচা শামুক হতে পারেন। তাই সকলকে সাবধান হতে হবে।
বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, ড. কামাল যা বলেছেন তাতে আশার চেয়ে হতাশাই বেশি প্রচারিত হয়েছে। গণফোরাম গঠনের পর সম্ভবত এই প্রথম ভাড়াটিয়া প্রার্থীদের নিয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে তার দল। সংসদে ঢুকেই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন দেখাটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হতে পারে।
Leave a Reply