মোঃ রাজন মাদবর
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে সেলিম আহমেদ রেজাকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততা এবং দলের প্রতি আনুগত্যকে সামনে রেখে তাঁকে সাংগঠনিক নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহী তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সেলিম আহমেদ রেজা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলার অংশ বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। তাঁদের মতে, রাজনীতির কঠিন সময়ে দলের কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত থাকা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অভিজ্ঞতা তাঁকে সাংগঠনিক নেতৃত্বের প্রত্যাশী করে তুলেছে। এ কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সেলিম আহমেদ রেজার রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম দিক হলো বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আস্থা এবং দলের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভাবনার আলোকে গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী যুব সংগঠন গড়ে তুলতে হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সেলিম আহমেদ রেজা সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন। তাঁদের মতে, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা হলে যুবদলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদটি রাজধানীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব। এ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করার সক্ষমতা প্রয়োজন। সেলিম আহমেদ রেজার সমর্থকদের দাবি, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগানোর সুযোগ দেওয়া হলে তিনি সংগঠনের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে পারবেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেলিম আহমেদ রেজা বলেন, “তারেক রহমানের নির্দেশনা ও আদর্শ বাস্তবায়নে আমি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলের প্রতিটি কর্মসূচি শৃঙ্খলা, ঐক্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই আমার অঙ্গীকার। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থে রাজপথে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় আমার। দুঃসময়ে যেমন পাশে ছিলাম, আগামীতেও তেমনি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কর্মী হিসেবে পাশে আছি এবং থাকব।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা ও আলোচনা নতুন নয়। তবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে কে দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ধারণ করবে দলের সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। সেলিম আহমেদ রেজাকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।