1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন

উখিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ: পূজা বন্ধের হুমকির অভিযোগ, প্রশাসনের মধ্যস্থতায়ও কাটেনি জটিলতা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

 

মোশাররফ করিম রুমী, কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়া বাজারে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে রতন গংদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন, পূজা উদ্‌যাপন বন্ধ রাখার হুমকির অভিযোগ এবং প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একাধিক বৈঠককে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রতন গংদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, মুন্সি পরিবারের কাছ থেকে দাবিকৃত জায়গা উদ্ধার করা না হলে আসন্ন পূজা উদ্‌যাপন করা হবে না। এ দাবির পর উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরীর উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিরোধপূর্ণ স্থানের আংশিক ভাঙা দেয়াল প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কার করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে রতন গংদের দায়ের করা আপিল মামলার রায় বা ডিক্রি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ স্থানে কোনো পক্ষই প্রবেশ বা নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না—এমন শর্তের বিষয়েও আলোচনা হয়।

তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনে বিলম্ব হওয়ায় রতন গংদের পক্ষ থেকে আগের দাবির পাশাপাশি অবশিষ্ট দেয়ালও সংস্কার করে দেওয়ার দাবি তোলা হয়। দাবি পূরণ না হলে আসন্ন পূজা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি পুনরায় প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সি পরিবারের সদস্যদের ডেকে আবারও বৈঠক করেন। বৈঠকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মুন্সি পরিবারের পক্ষ থেকে বিরোধপূর্ণ স্থানে টিনের বেড়া দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে বলে জানা গেছে।

এরপর মুন্সি পরিবারের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারা নিজেদের অবস্থান, জমি সংক্রান্ত দাবি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট নথি ও পক্ষগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি উখিয়া বাজার এলাকার বিএস ৭০২৯ দাগে অবস্থিত, যার পরিমাণ আনুমানিক ২৫ শতক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে প্রায় ৭০ শতক জমি। জমিটির মূল মালিক জেলা প্রশাসক বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে ১৯৮৬-৮৭ সালের শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি মামলায় জাকের মুন্সির নাম প্রস্তাব ও সুপারিশসহ জেলা প্রশাসকের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

এদিকে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা ডিক্রি হওয়ার আগে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে কোনো পক্ষের দাবিকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় উৎসবকে কোনো বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে উভয় পক্ষের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় এবং ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..