1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

পাটগ্রামে অস্তিত্বহীন মিলের নামে চালের বরাদ্দ, সিন্ডিকেটের কবলে সাধারণ কৃষক।

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত
১৮

হাসিবুল ইসলাম,

 

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে অস্তিত্বহীন মিলের নামে চালের বরাদ্দ আজ নতুন নয়। বছরের পর বছর এমন অনিয়ম হয়ে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না ওই সমস্ত মিলের বিরুদ্ধে। আর এমন অনিয়মের ফাঁকেই সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তারা লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এর সঙ্গে খাদ্য বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার পাশাপাশি জড়িত প্রভাবশালী চালকল মালিকেরাও।
অপরদিকে সিন্ডিকেটের কবলে সাধারণ কৃষকরা।

পাটগ্রামে হাস্কিং এবং অটো মিলিয়ে সর্বমোট রাইস মিলের সংখ্যা ৪৪টি,এর মধ্যে সচল ২৪ টি। এসব মিলারদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করা হয় সরকারের আপদকালীন চাল। চাল সরবরাহ চালকল মালিকদের যেপরিমান বরাদ্দ আসে তাতে বিপুল অর্থ পকেটে যায় মিলার অর্থাৎ চালকল মালিকদের। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চাল সরবরাহ লাভজনক হওয়ায় অস্তিত্বহীন মিলের নামেও দেয়া হয়েছে চালের বরাদ্দ। যার সংখ্যায় উঠে এসেছে ২৩ টি মিলের নাম ।দৈনিক যুগ যুগান্তর পত্রিকার এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

পাটগ্রাম উপজেলার ২৩ টি রাইস মিলের কোনো অস্তিত্ব নেই প্রায় এক যুগেরও বেশি সময়।

বছরের পর বছর এই মিলের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাতে জন্মেছে আগাছা। বয়লারেরও অস্তিত্ব নেই। সাইনবোর্ড না থাকায় চেনারও উপায় নেই অনেক মিল। অথচ বন্ধ এই মিলের নামে বছরের পর বছর আসে চালের বরাদ্দ। এবারেরও ১৬৯০ মেট্রিক টন চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪ টি মিলে।
বেশ কয়েকজন মিল মালিক জানান, হাস্কিং মিলের ব্যবসা এখন আর নেই। অটো মিলের দাপটে মিল গুলো বন্ধ করা হয়েছে।
মিল মালিক রঞ্জিত কুমার সাহা তার নামে বরাদ্দের বিষয়ে জানান, আমার বরাদ্দ অট মিলকে দিয়েছি,কত টন পেয়েছেন তাও জানেন না।

কীভাবে এবং কেনইবা অস্তিত্বহীন মিলের নামে বরাদ্দ দেয়া হয় চালের? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো মিলের নামে চালের বরাদ্দ দেয়ার আগে ওই সমস্ত মিল বরাদ্দ পাবার যোগ্য কিনা সেবিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দেয়া হয় বরাদ্দ। কিন্তু পাটগ্রাম খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা দায়সারা প্রতিবেদনে বন্ধ এবং অস্তিত্বহীন মিলের নামেও বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। বিনিময়ে এসব মিলারদের কাছ থেকে নির্দিষ্টহারে কমিশন পান। যার পরিমাণও কম নয়।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাটগ্রাম উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা (মো: নাসিম আল আকতার)।
তিনি নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানান, অস্তিত্বহীন মিলের নাম বরাদ্দ তালিকায় নেই। যেসব মিলের একেবারেই অস্তিত্বহীন ওইসব মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন এই খাদ্য কর্মকর্তা।

পাটগ্রাম উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক,মো: শাহিনুর ইসলাম জানান,সাংবাদিকদের লেখালেখি আমরা আমলে নিতেছি না,সংগঠনে সেক্রেটারি বাহিরে আছেন আসিলে বসা হবে।

চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ২৪ টি মিলারদের কাছে ৪৯ ,টাকা কেজি দরে প্রায় ১৬৯০ মেট্রিক টন চাল কেনার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে পাটগ্রাম উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
এবিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..