1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীপুর কৃষকের ট্রাক্টরটির কিস্তিও শেষ হয়নি, পুড়িয়ে দিলো বিএনপির লোকজন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ৯৯ বার পঠিত
১২৪

মোঃ হুমায়ুন কবির

লক্ষ্মীপুরে কৃষক সালাহউদ্দিন মাঝির অনাবাদি জমি চাষাবাদের উপযোগী করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। হালচাষের জন্য জমিতে (সোনালীকা) ট্রাক্টর নামানো হলে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতংক সৃষ্টি করে। মারধর করা হয় ট্রাক্টর চালক রুবেলকে। প্রাণের ভয়ে রুবেল দৌড়ে পালিয়ে গেলও। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তার ট্রাক্টরটি।

মঙ্গলবার (১৬-জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের (৯নং ওয়ার্ড) মধ্য চর রমনী গ্রামের দুর্গম চরে এ ঘটনা ঘটে।

 

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, সোমবার রাতে কৃষক সালাহউদ্দিন ট্রাক্টর চালক রুবেলকে মুঠোফোনে জানান তার জমিতে হালচাষ দেওয়ার জন্য। (আজ) মঙ্গলবার দুপুরে রুবেল কৃষক সালাহউদ্দিনের জমিতে চাষ দেয়। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী এসে হালচাষে বাধা দেয়। এসময় তারা তিন থেকে পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতংক সৃষ্টি করে। চালককে মারধর করে তার ট্রাক্টরটি পুড়িয়ে দেয়।

কৃষক সালাহউদ্দিন জানান, তার জমিতে চাষ দেওয়ার জন্য চালক রুবেলকে বলা হয়। দুপুরে রুবেল জমিতে হালচাষ দেওয়ার সময় কৃষক সালাহউদ্দিন লক্ষ্মীপুরে ছিলেন। কী কারণে বিএনপির লোকজন হালচাষ করতে বাধা দিয়েছে এ উত্তর তিনি দিতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন এই জমি তার এবং কারো সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নেই।

ট্রাক্টর চালক রুবেল বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা কিরন, মিলন ও ছাত্রদল নেতা রাসেলসহ একাধিক ব্যক্তি এসে হঠাৎ তাকে নিষেধ করে ট্রাক্টর বন্ধ করার জন্য। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। ট্রাক্টর রেখে সেই দৌড়ে পালিয়ে গেলে অভিযুক্তরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, আহত ১৫

সুজানগরে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০

জ্বালিয়ে দেওয়া সোনালীকা ট্রাক্টরের মালিক গিয়াসউদ্দিন বলেন, ২০ লাখ টাকার কিস্তিতে সোনালীকা (ট্রাক্টর) গাড়িটি কিনছেন। এখনও কিস্তি পরিশোধ করা হয়নি। দুর্গম চরের কৃষকের জমি হালচাষ করা হয়। প্রতিহিংসার বশতে গাড়িটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাসেল মাহমুদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ট্রাক্টরে আগুন দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে চর রমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিলন হোসেন ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মুঠোফোনে বক্তব্যে দেবেন না। সরাসরি তার কাছে গেলে বিস্তারিত বলবেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, দুই পক্ষের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। দুপুরে যারা হামলা করছে, বিকেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মামলা করা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..