মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
আগামী ১৬ জুলাই শহিদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ এবং ৫ আগস্ট গণহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে পালনের লক্ষ্যে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবস দুটিকে কেন্দ্র করে স্মরণ, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বীর জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় দিবস দুটি পালনের সার্বিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনুষ্ঠানসমূহের সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কর্মসূচিগুলো যাতে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, ১৬ জুলাই শহিদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে ৫ আগস্ট গণহত্যা দিবসেও সকাল ১০টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে।
এছাড়াও দিবস দুটিকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মরণসভা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষ্ঠান, জেলা সরকারি হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় আলোকসজ্জা এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সজ্জা কার্যক্রম।
সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা, আত্মত্যাগ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারক। তাই দিবস দুটির তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের মাধ্যমে শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো এবং গণআন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। তিনি কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান।