লাকী আক্তার
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৩ নং মাহমুদপুর ইউনিয়নে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন, বিশাল ভোজে সাধারণ মানুষকে আপ্যায়ন এবং নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আগাম প্রচার-প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন বিএনপির তৃণমূলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কাজাইকাঠা গ্রামের আইডিয়াল স্কুল মাঠে তথাকথিত ‘উঠান বৈঠক’-এর নামে বিশাল গরু জবেহ করে ভুরি ভোজের আয়োজন করেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বর রহমান মাষ্টার। ভুরি ভোজ অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের লোকজনকে আপ্যায়ন করার উদ্দেশ্যে গরু জবাই করে বিশাল আয়োজন করা হয়। ভোজশেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে ৩ নং মাহমুদপুর ইউনিয়নের আগামী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং প্রকাশ্যে ভোট চান।
নির্বাচন কমিশন এখনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোনো তফসিল ঘোষণা করেনি, এমনকি দল থেকেও কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া হয়নি। অথচ বিভিন্ন উঠান বৈঠকে তৈয়বর রহমান মাষ্টার ও তার সমর্থকেরা দাবি করেন, মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল নাকি তাকে প্রার্থী হিসেবে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে যখন উক্ত বৈঠকে উপস্থিত থেকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন ৩ নং মাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। তিনি একমঞ্চে দাঁড়িয়ে জোরালো কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “মাহমুদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তৈয়বর রহমান মাষ্টারকেই মাননীয় এমপি সমর্থন দিয়েছেন।” নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের দাপ্তরিক পদে থাকা নেতাকে পাশে বসিয়ে ও তাকে দিয়ে এমন সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ানোর ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত ১৭ বছর ধরে যে আওয়ামী লীগ নেতাদের হাত ধরে মাঠপর্যায়ের বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী হামলা, মামলা ও জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আজ তারাই কীভাবে বিএনপির পদে থাকা নেতার সঙ্গে একই মঞ্চে বসে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন—তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃনমূলের সাধারণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে পড়ছে এবং আদর্শচ্যুত রাজনীতির এক বিষাক্ত সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, আগাম বিশাল ভোজের আয়োজন কেবল স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘনই নয়, বরং এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের নাম ভাঙিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে এভাবে বৈঠক করায় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও বিএনপির তৃণমূলের রাজনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হস্থক্ষেপ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।