ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,
ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিতে ছুরিকাঘাতে আল আমিন (৩০) নামে এক পপকর্ন বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর ) রাত ৯টার দিকে জেলার পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে যাত্রা করছিল।
বিষয়টি যুগ-যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল আজিজ।
আল আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চরবধুয়াথলি গ্রামের মন্টুর ছেলে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, ট্রেনের শেষ বগিতে পপকর্ন বিক্রেতা আল আমিন এবং নারিকেল বিক্রেতার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা কাটাকাটি চলছিল। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে নারিকেল বিক্রেতা। এক পর্যায়ে তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আল আমিনের বুকে ও পেটে একাধিকবার আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর জখম অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে যাত্রীরা বগিতে ছুটে এলে এ সুযোগে অভিযুক্ত নারিকেল বিক্রেতা দ্রুত নেমে পালিয়ে যায় বলে জানায় স্টেশন কর্তৃপক্ষ। তবে পালানোর সময় তাকে বেশ কয়েকজন দেখেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। পরে যাত্রী ও স্থানীয়রা আল আমিনকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের বরাতে জানা গেছে, আল আমিন কয়েক বছর ধরে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করতেন। বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে তিনি এ কাজ বেছে নিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, ট্রেনে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মধ্যে জায়গা দখল ও ক্রেতা নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ায় এসব সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি না করায় ঝুঁকি বাড়ছে।
পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল আজিজ বলেন, ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার আগেই বগির ভেতরে দুই বিক্রেতার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। নারিকেল বিক্রেতা ছুরি দিয়ে আল আমিনকে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠায়।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাকে আটকের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি ব্যক্তিগত বিরোধজনিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply