যশোরপ্রতিনিধি,
বাঘারপাড়া উপজেলায় রুবেল হোসেন নামে যুবদলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাজুরা বাজার তেলপাম্পে এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়।
প্রায় আধ-ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে নিহত রুবেলের প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা ও নেতাকর্মীরা রুবেল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে, এ দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রুবেল বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পেশায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের চালক ছিলেন। তিনি উপজেলার তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে রুবেল বাইরে থেকে কাভার্ডভ্যান চালিয়ে খাজুরায় আসেন। গাড়িটি যশোর–মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাজুরা তেলপাম্পে রেখে পাশের বাড়িতে যান। পরে সেখান থেকে হেঁটে তেলপাম্পের দিকে যাওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে পৌঁছান। এ সময় রুবেলের পথ রোধ করেন তার বোনের দেবর একই গ্রামের রাব্বিসহ (২২) তিন–চারজন। তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন রাব্বি। পরে রাব্বি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে দুপুর ১২টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।
নিহত রুবেলের মা ফিরোজা বেগম আহাজারি করে বলেন, প্রায়ই স্থানীয় বখাটে নিয়ে রাব্বি তেলীধান্যপুড়া উলুমুল হাফেজিয়া কুরআন মাদরাসা মাঠে আড্ডা দিতো। একদিন মাদরাসার হুজুর রাব্বিকে এখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করে। রাব্বি হুজুরের নিষেধ না শুনে উল্টো হুজুরকে নানা আজেবাজে কথা বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে রুবেল রাব্বিকে চড় মারেন। সেই থেকে রাব্বির রুবেলের প্রতি ক্ষোভ জন্মায় ও প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিতো। সেই প্রতিশোধ হিসেবে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনের বুকে, পিঠে ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত রুবেলের ভাই রাজিব হোসেন জানান, রুবেলকে মারতে রাব্বির সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল এসেছিল। খাজুরা বাজার বাসস্ট্যাণ্ড জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।