মনিরামপুর(যশোর) নিজস্ব প্রতিনিধি
যশোরে সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪ সংসদ সদস্য। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্য ও প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ বাতিল করে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
৪ সংসদ সদস্যের পক্ষে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যশোরের ১৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের সহায়তায় অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সংসদ সদস্যরা। এতে প্রকৃত সার ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, যশোরের ৫ সংসদীয় আসনে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ ও সুপারিশ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। জেলা প্রশাসক সরকারি দলের দেওয়া তালিকা চূড়ান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা, দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এর ফলে সার বিতরণের মতো কৃষিসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় আটক ব্যক্তির স্ত্রী, একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি
সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সামাজিক, কৃষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
বরং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবি
সার ডিলার নিয়োগে কথিত দলীয়করণ ও অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে পাঁচ সংসদ সদস্য বলেন, কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে যোগ্য ও সৎ ডিলার নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত না করে যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ডিলারশিপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তৃপক্ষ কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসবে।